


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পূর্ব ঘোষণামতোই সোমবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলিপুর ক্যাম্পাসে অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসার হিসেবে ক্লাস নিলেন সদ্য প্রাক্তন অন্তর্বর্তী উপাচার্য শান্তা দত্ত। এসএসসির ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগে টানা একঘণ্টা ক্লাস নেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনও তরফ থেকে বাধা আসেনি। ছাত্রীরা তো বটেই, শিক্ষিকারাও খুব খুশি। আমি ভবিষ্যতে অন্য কোথাও দায়িত্ব নিলেও এখানে পড়ানোর কাজ চালিয়ে যাব। না-হলে বিভাগটাই উঠে যাবে। ইরা ঘোষ বিভাগটি চালু করার পরে আমার হাতেই বিভিন্ন কলেজে এই বিষয়ের বিস্তার ঘটেছিল। তাই আমার অন্য আবেগও কাজ করছে।’
শান্তাদেবীর অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসার হিসেবে যোগ দেওয়ায় অন্য বিতর্কের কথাও তুলে ধরছেন কেউ কেউ। তাঁদের বক্তব্য, ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী, এই নিয়োগের জন্য বিভাগীয় বৈঠক ডেকে নাম সুপারিশ করতে হয়। উপাচার্য বা তাঁর মনোনীত কমিটির মাধ্যমে নাম বাছাই হয়ে সিন্ডিকেটে যায়। সেই নামগুলি সিন্ডিকেটে পাশ হওয়ার পরে তাঁকে নিয়োগ করা যায়। এক্ষেত্রে স্বয়ং উপাচার্যের নামই সংশ্লিষ্ট ফ্যাকাল্টির ডিন সুপারিশ করেছিলেন। তার আগে বিভাগীয় বৈঠকও ডাকা হয়নি। কারণ, তদানীন্তন বিভাগীয় প্রধান এটিকে নীতিবিরুদ্ধ আখ্যা দিয়ে বৈঠক ডাকতে অসম্মত হন। তিনি বলেন, সিলেকশন কমিটির চেয়ারপার্সন হন উপাচার্য বা তাঁর মনোনীত সদস্য। এক্ষেত্রে উপাচার্যই কীভাবে নিজেকে বাছাই করবেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। শেষপর্যন্ত উপাচার্যকে সিন্ডিকেট বৈঠকের বাইরে রেখে তাঁর নাম প্রস্তাব করেন ডিন। এমনকি, পরে তাঁর নামে সিলমোহর দেন ডিনই। এক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাতের পাশাপাশি পদ্ধতিগত ত্রুটি হয়েছে বলেও অনেকের মত। এই প্রসঙ্গে শান্তাদেবী বলেন, ‘আমি বিনা পারিশ্রমিকে পড়াচ্ছি। ইউজিসির যে সিলেকশন কমিটির নিয়ম রয়েছে, তাতে এই প্রফেসাররা সাম্মানিক পান। তাছাড়া, আমার নাম থাকায় আমি সিন্ডিকেটের বৈঠকের ওই নির্দিষ্ট সময়ে বেরিয়ে গিয়েছিলাম।’