


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: উচ্চ মাধ্যমিকের চতুর্থ সেমেস্টার অর্থাৎ চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষায় টুকলি রুখতে এবার বাড়তি নজরদারি। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, স্মার্ট ওয়াচ পরে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে পারবে না। সেইসঙ্গে কোনও প্রকার ইলেকট্রনিক গ্যাজেট নিয়ে যাতে তারা পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে না পারে সেদিকে কড়া নজরদারি চালানো হবে। এক্ষেত্রে, পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রবেশ পথেই মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্যে তল্লাশি চালান হবে। মঙ্গলবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাকে নজরে রেখে প্রস্তুতি বৈঠকে যোগ দিতে এসে এমনই মন্তব্য করলেন সংসদ সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, মোবাইল ও ইলেকট্রনিক গ্যাজেটের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স পলিসি মানা হবে। স্মার্ট ওয়াচও পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধ। কোনও পরীক্ষার্থী ইলেকট্রনিক গ্যাজেট সহ ধরা পড়লে, তার এনরোলমেন্ট পুরোপুরিভাবে বাতিল করা হবে।
জেলা শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চতুর্থ সেমেস্টার পর্বে পরীক্ষার্থীদের একাংশ পুরনো সিলেবাসেও পরীক্ষা দেবে। এবছর জেলায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা আনুমানিক ২৮ হাজারের বেশি হবে। আগামী বছর ১২ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা শুরু হবে। ২৭ তারিখ পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। এদিন জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শক (উচ্চ মাধ্যমিক) মহুয়া বসাক, উচ্চ মাধ্যমিকের যুগ্ম আহ্বায়ক জ্যোতির্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় সহ সেন্টার ইনচার্জ, সেন্টার সেক্রেটারি, ভেন্যু সুপারভাইজারদের নিয়ে সংসদ সভাপতি ম্যারাথন বৈঠক সারেন। চতুর্থ সেমেস্টার শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, তা নিয়ে এদিনের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
চলতি শিক্ষাবর্ষে জেলায় পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমেছে। জেলা শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর পুরুলিয়ায় মোট ৮০টি পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল। এবার তা কমে ৭৭ হয়েছে। যদিও মূল কেন্দ্রের সংখ্যা অবশ্য বেড়েছে। গত বছর জেলায় এর সংখ্যা ছিল ৪০টি। এবছর সেই সংখ্যা বেড়ে ৪৩ হয়েছে। পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রবেশপথেই মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালানোর বন্দোবস্ত থাকছে। পরীক্ষা চলাকালীন কোনও পরীক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তার যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেক্ষেত্রেও আগে থেকেই সব ধরনের প্রস্তুতি সেরে নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। এক্ষেত্রে, দেবেন মাহাত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সদর ক্যাম্পাসে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথকভাবে ‘সিক বেড’ চিহ্নিত করা থাকবে। জ্যোতির্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সেমেস্টার পদ্ধতি আমাদের কাছে পুরোপুরিভাবে নতুন। তবে, সংসদের বাতলে দেওয়া পথ অনুসরণে তৃতীয় সেমেস্টার ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, চতুর্থ সেমেস্টারও নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হবে। সংসদের তরফে বাতলে দেওয়া নির্দেশ মেনেই পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। টুকলি রুখতে এবার ঘড়িতে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। একজন পরীক্ষার্থীও যাতে স্মার্ট ওয়াচ পরে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে না পারে, সেদিকে কড়া নজরদারি চালানো হবে।