


শুভজিৎ অধিকারী, সোনমার্গ: হাইওয়ের ঠিক পাশেই সোনমার্গ মার্কেট। ডানদিকে তাকালেই সিরবল, কলহইয়ের মতো হিমালয় পর্বতমালার একের পর এক বরফমোড়া সুউচ্চ শৃঙ্গ। বামদিকে কুল কুল করে বইছে সিন্ধুর নালা। এখান থেকে বালতাল ১৭ কিলোমিটার। তার আগে হেলিপ্যাড। দূরত্ব মাত্র তিন কিমি। এখান থেকে আকাশ বা সড়ক পথে অমরনাথ যাওয়া যায়। সড়কটি প্রাচীন রেশন রুটে অমরনাথ যাত্রার দ্বিতীয় পথ। এখান থেকে হিমালয়ের একটি শিখর ট্রেক করলেই ওপারে পহেলগাঁও। একটি পাহাড়ের ব্যবধান। কিন্তু ঘুরপথে আলাদা রুট। শ্রীনগর থেকে অনেকটা দূর।
গত ২২ এপ্রিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের নির্বিচার গুলির আওয়াজ পাহাড় পেরিয়ে পৌঁছয়নি সোনমার্গে। তখন এখানে প্রতিটি হোটেলে থিকথিকে ভিড়। অনেকেই ঘোড়ায় চড়ে শিখরের পাদদেশে রিল করছেন। সন্ধ্যা নাগাদ সবাই জানতে পারে, পাহাড়ে ওপারে ভয়ানক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। ২৬ জন পর্যটক নিথর হয়ে গিয়েছেন জঙ্গিদের গুলিতে। ততক্ষণে সোনমার্গ হাইওয়েতে সেনার কনভয় ছুটতে শুরু করেছে। যে যার মতো তড়িঘড়ি হোটেলে ফিরে আসেন। সে ছিল এক অভিশপ্ত সন্ধ্যা। গত বছরের অক্টোবরে তেমনই এক আতঙ্কের সন্ধ্যার সাক্ষী হতে হয়েছিল সোনমার্গকে। সেদিন সাতটি তরতাজা প্রাণ ঝরে গিয়েছিল জঙ্গিদের হামলায়। তাঁদের মধ্যে ৬ জন জোজিলা টানেল নির্মাণে যুক্ত শ্রমিক। একজন চিকিৎসক। বছর ঘোরার আগেই সেই আতঙ্ক নেমে এসেছিল পহেলগাঁওয়ে।
তারপরের দিনই অন্য সূর্যোদয় দেখে সোনার তৃণভূমি (সোনমার্গ)। আগের দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় হোটেল ছাড়ার হিড়িক। শ্রীনগরমুখী পর্যটকদের স্রোত। শুনশান হয়ে যায় সোনমার্গ। একের পর এক বুকিং বাতিল। সেদিনের কথা বলতে গিয়ে শহরের নামকরা এক হোটেলের মালিক আইজাজ আহমেদ জানালেন, ভয়ঙ্কর সেই সন্ধ্যা! তিন চারদিনের বুকিং বাতিল করে শ্রীনগরে রওনা দিলেন পর্যটকরা। পরের দিন থেকেই সব হোটেলই ফাঁকা। তারপর অপারেশন সিন্দুর। যুদ্ধ-যুদ্ধ পরিস্থিতি। গত ১৮ মে পর্যন্ত সোনমার্গে কার্যত পর্যটকদের পা পড়েনি। ১৯ এপ্রিল থেকে একজন-দুজন করে আসতে শুরু করেন। তারপর সংখ্যাটা বাড়ছে। জুন-জুলাই মাসের জন্য খুব ভালো বুকিং হচ্ছে। ওই সময় সম্ভবত ঘর মিলবে না। আশা করছি, জুন ও জুলাই মিলিয়ে দেড় লক্ষের মতো পর্যটক আসবেন।
জঙ্গি হামলার ভীতি কি তা হলে দু মাসেই উধাও? সোনমার্গের আর এক হোটেল মালিক মুস্তাফিজ জানালেন, ‘সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ৩ জুলাই অমরনাথ যাত্রা শুরু হবে। সরকারের তরফে প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। জোরদার করা হচ্ছে নিরাপত্তা। ফলে আতঙ্ক ভুলে পর্যটকেরা ফের আসতে শুরু করেছেন। যাঁদের অধিকাংশই অমরনাথ পুণ্যার্থী।’ অমরনাথ যাত্রা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা কঠোর করা হয়েছে। জোজিলা হয়ে কারগিল আসার পথে কড়া চেকিং, সাইরেন বাজিয়ে সেনার টহলদারি তারই হাতে গরম প্রমাণ।