


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: নিউটাউনে যুবকের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় সামনে এল ত্রিকোণ প্রেমের গল্প! শনিবার মৃত যুবকের বাবা এ ব্যাপারে টেকনোসিটি থানায় ছেলের প্রেমিকা এবং তার নতুন গজিয়ে ওঠা বয়ফ্রেন্ডের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ছেলের প্রেমিকা এবং তার নতুন বয়ফ্রেন্ড প্রায়ই ছেলেকে হুমকি দিত। ছেলের মৃত্যুর জন্য তাই ওই দু’জনকেই কাঠগড়ায় তুলেছে মৃতের পরিবার। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নিউটাউনে। আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে পরিবার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম অনির্বাণ ভট্টাচার্য (৩০)। তাঁর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁয়। চাকরি সূত্রে তিনি গত তিনমাস ধরে নিউটাউনের চকপাঁচুরিয়া সর্দারপাড়ায় ভাড়া থাকছিলেন। বনগাঁর এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২৩ নভেম্বর বিকেলে অনির্বাণের মৃত্যু সংবাদ পান তাঁর বাবা। ভাড়া বাড়ি থেকেই তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ওইদিনই তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। তারপর হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে শনাক্ত করেন। পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
শনিবার অনির্বাণের বাবা ছেলের মৃত্যু নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে! কারণ, শনাক্ত করার সময় তিনি দেহে আঘাতের চিহ্ন দেখেছিলেন। অনির্বাণের বাবা পুলিশকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, প্রেমিকার সঙ্গে তাঁর ছেলের বিয়ে স্থির হয়েছিল। কিন্তু, এই অবস্থায় ওই প্রেমিকা এক নতুন বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। তা নিয়ে ছেলের সঙ্গে প্রেমিকার প্রায়ই ঝগড়া হত। প্রেমিকা ও তাঁর নতুন বয়ফ্রেন্ড মিলে অনির্বাণকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিত বলে অভিযোগ। মৃতের বাবা অভিযোগপত্রের সঙ্গে একটি শপিংমলের বিল জমা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, মৃত্যুর আগেরদিন প্রেমিকাকে নিয়ে শপিংয়ে গিয়েছিল ছেলে। তার রুম থেকে নতুন একজোড়া লেডিস জুতো পাওয়া গিয়েছে।
বিধাননগরের এক পুলিশ অফিসার বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট চলে এসেছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী অনির্বাণ গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাই খুনের মামলা নয়, আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।