


সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আগে এলে তবেই প্রথম বেঞ্চে বসার সুযোগ। যত দেরি হবে তত সম্ভাবনা লাস্ট বেঞ্চে বসার। পাথরপ্রতিমার শিবগঞ্জ এফ পি স্কুলের এটাই অলিখিত প্রথা। আবার বাসন্তীর জয়গোপালপুর আদিবাসী এফ পি স্কুলে লাস্ট বেঞ্চে বসে খুনসুটিতে মশগুল হয়ে পড়ত কিছু ছাত্র-ছাত্রী। কিন্তু সেসব ছবি এবার মুছে যাবে। শিক্ষকের একেবারে সামনে বসে ক্লাস করবে পড়ুয়ারা। ফলে ফাঁকি দেওয়ার চান্স পাবে না। দক্ষিণ ২৪ পরগনাজুড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বসার ব্যবস্থায় আনা হল বদল। ফার্স্ট থেকে লাস্ট নয়, বেঞ্চ বসবে ‘ইউ’ আকৃতিতে।
ফলে ব্যাক বেঞ্চার্স বিষয়টিই উঠে গেল। সব ধরনের পড়ুয়াকে উৎসাহ দিতে এবং পিছিয়ে পড়া ছাত্র বা ছাত্রীর প্রতি বাড়তি নজর দিতে এই উদ্যোগ। শিক্ষকরা প্রত্যেক পড়ুয়ার দিকে সমান নজর দিতে পারবেন। এর ফলে পড়াতে সুবিধা হবে। রাজ্যের কয়েকটি জেলায় কিছু স্কুলে ইতিমধ্যেই বসার চিরাচরিত পদ্ধতি পাল্টানো হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের পরামর্শে এই জেলার প্রায় সব স্কুলেই এবার কার্যকর হল নয়া নিয়ম।
এই ব্যবস্থা চালুর পর পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ দেখা দিয়েছে বলে দাবি কয়েকজন প্রধান শিক্ষকের। সোনারপুরের শীতলা মদন শঙ্কর, কুলপির এফপি, পাথরপ্রতিমার শিবগঞ্জ, বাসন্তীর জয়গোপালপুর আদিবাসী ইত্যাদি এফ পি স্কুল এবং বল্লারটপ মগরাহাটের ডিহি নারায়ণী ধূলাগোট অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্কুলগুলি এবং একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় ‘নো মোর ব্যাক বেঞ্চার্স’ নীতি নিয়ে ফেলেছে। শেখ সাইফুদ্দিন নামে পাথরপ্রতিমার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আগে শেষ বেঞ্চের ছাত্র বা ছাত্রী কী করছে তার দিকে নজর রাখা যেত না। কেউ পড়া শুনছে না অন্য কিছু করছে তা ধরা যেত না। এবার শিক্ষক ঘুরে ঘুরে পড়াবেন। ফলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উপরই তাঁর নজর থাকবে। ছেলেমেয়েদের ফাঁকি দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।’ বিশ্বজিত মহাকুর নামে বাসন্তীর একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘প্রথমে পঞ্চম শ্রেণি দিয়ে বসার পদ্ধতি বদলানো হয়। তখন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। তারপর নতুন পদ্ধতিতে বেঞ্চে বসে আনন্দ পেয়েছে। এখন সব ক্লাসের বেঞ্চ ইউ আকৃতিতে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান অজিত নায়েক বলেন, ‘প্রায় চার হাজার প্রাথমিক স্কুল আছে। তার মধ্যে অন্তত দু’হাজার স্কুলে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। ইতিমধ্যে শতাধিক স্কুল করে ফেলেছে। ধাপে ধাপে বাকিরাও করবে। যার যেমন পরিকাঠামো সেভাবে বসার নয়া ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।’ নিজস্ব চিত্র