


নয়াদিল্লি: তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কেবল তিনিই। দক্ষিণী হোক বা হিন্দি সিনে ইন্ডাস্ট্রি— সর্বত্র অবাধ বিচরণ মেগাস্টার মোহনলালের। অভিনয় করেছেন সাড়ে তিনশোরও বেশি ছবিতে। ভারতীয় সিনেমায় অনবদ্য অবদানের জন্য এবার দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পাচ্ছেন শিল্পী। শনিবার কেন্দ্রীয় তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রকের তরফে এই ঘোষণা করা হয়েছে। মোহনলালকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘একজন বহুমুখী প্রতিভা। বিগত কয়েক দশক ধরে নিজের কাজ দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন বিনোদন জগৎকে। মালয়ালম সিনেমার পাশাপাশি তেলুগু, তামিল, কন্নড় ও হিন্দি ছবিতেও অসাধারণ তাঁর অভিনয়। কেরলের সংস্কৃতির প্রতিও তাঁর অনুরাগ বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিভা অনুপ্রেরণা জোগায়।’ অভিনেতার সঙ্গে নিজের একটি ছবিও শেয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার দেওয়া হবে মোহনলালকে।
কেরিয়ার শুরু করেছিলেন ১৮ বছর বয়সে। প্রথম অভিনয় ১৯৭৮ সালে ‘থিরানোত্তম’ ছবিতে। তবে ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল প্রায় ২৫ বছর পর। ১৯৮০ সালে ‘মঞ্জিল ভিরিঞ্জ পুক্কল’ নামের রোমান্টিক ঘরানার ছবিতে প্রথম দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সেই দশক থেকেই দক্ষিণী ফিল্মজগতে গড়ে ওঠে ‘লালেত্তান’-এর পরিচিতি। ২০০২ সালে রামগোপাল বর্মার পরিচালনায় কাজ করেন ‘কোম্পানি’ ছবিতে। সেটিই তাঁর প্রথম হিন্দি ছবি। ‘বাণপ্রস্থম’, ‘দৃশ্যম’, ‘ওপাম’, ‘দশরথম’, ‘ব্রো ড্যাডি’... আরও বহু ছবিতে তাঁর অভিনয় মুগ্ধ করে। জাতীয় পুরস্কারের পাশাপাশি পেয়েছেন পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ। চলতি বছর তাঁর অভিনীত ‘লুসিফার ২: এমপুরান’ ছবিটি নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। গোধরা-কাণ্ড পরবর্তী ধর্মীয় সংঘর্ষ উঠে এসেছিল এই ছবিতে। তা বন্ধের আর্জি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন ত্রিশূরের এক বিজেপি নেতা। পাশাপাশি হেমা কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। শিল্পী সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব মালয়ালম মুভি আর্টিস্টস’-এর সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন। যাবতীয় বিতর্কের পরও তাঁর জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। এবার সিনে ইন্ডাস্ট্রির সেই মেগাস্টারকেই ভারতীয় সিনেদুনিয়ার সর্বোচ্চ সম্মানের সম্মানিত করা হচ্ছে।