


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাত দেড়টা। হাওড়া ময়দান থেকে দ্রুত গতিতে ছুটছিল চারটি বাইক। প্রত্যেকের মাথাতেই হেলমেট। কিন্তু, গতির যা বহর, তাতে ছিটকে পড়লে মৃত্যু নির্ঘাত। হাওড়া ব্রিজ জুড়ে চলল সেই গতির খেলা। ব্র্যাবোর্ন রোড ফ্লাইওভার দিয়ে নেমে ডালহৌসি হয়ে রেড রোডের দিকে চলে যায় বেপরোয়া বাইকগুলি।
উপরের ছবিটা ১ ফেব্রুয়ারির। তবে কোনও নির্দিষ্ট দিন নয়। নিত্যদিন রাত হলেই হাওড়া ব্রিজের উপর চলছে গতির দৌরাত্ম্য। শুধু বাইক নয়, ঝুলন্ত সেতুতে অ্যাক্সিলেটরে চাপ দিয়ে বিপজ্জনক স্পিডের নেশায় মাতছে চারচাকার গাড়িও। বাদ নেই পণ্যবাহী ভারী গাড়িও। যানবাহনের অত্যধিক গতির জেরে হাওড়া ব্রিজে বাড়ছে কম্পন। যা সেতুর ভারবহন ক্ষমতার জন্য সুখকর নয়। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কলকাতা পুলিশকে অভিযোগ জানিয়েছেন শ্যামপ্রসাদ মুখার্জি পোর্টের আধিকারিকরা। সেই চিঠি পেয়ে ইতিমধ্যে ট্রাফিক বিভাগকে সতর্ক করেছেন যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) রূপেশ কুমার। তিনি হাওড়া ব্রিজ ট্রাফিক গার্ডকে এ নিয়ে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। রাতে হাওড়া ব্রিজে গতি দৌরাত্ম্য রুখতে নজরদারি বৃদ্ধির নিদান দিয়েছেন ট্রাফিক কর্তা।
কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, রাতে হাওড়া ব্রিজের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় থানার তরফে টহলদারি চলে। কিন্তু, ট্রাফিকের গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনও ব্যবস্থা ছিল না। এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্টে ‘সিঙ্গল’ গার্ডরেল বসানো থাকে। পোর্টের অভিযোগ পাওয়ার পর রাতে সেতুর উপর গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য হাওড়া ব্রিজে দফায় দফায় ‘ত্রিস্তরীয়’ গার্ডরেল ইনস্টলেশনের উদ্যোগ নিচ্ছে লালবাজার। একইসঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যাও। ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, হাওড়া ব্রিজের ট্রাফিক গার্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, রাতেও যানবাহনের স্পিড যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে পোর্টবেল স্পিড গান দিয়ে দূর থেকে গাড়ি, বাইকের গতি পরীক্ষা করা হবে। হাওড়া ব্রিজের উপর বাইক ও গাড়ির গতিসীমা রয়েছে প্রতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। সেই সীমা টপকালেই মোটর ভেহিকলস আইন অনুযায়ী ১০০০ টাকা জরিমানা করা হবে। ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে গতিসীমা লঙ্ঘনের মামলা নিয়ে তর্ক জুড়লে গ্রেপ্তারও করা হতে পারে অভিযুক্তকে।
অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, হাওড়া ব্রিজের একটি অংশ হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের অধীনে। হাওড়া স্টেশনের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কয়েকটি পিলার পর্যন্ত ব্রিজের ট্রাফিক ব্যবস্থা পরিচালনা করে হাওড়া পুলিশ। তাই ব্রিজের উপর যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে হাওড়া পুলিশের সঙ্গেও কথা বলছে লালবাজার। কমিশনারেটের তরফেও স্পিড-কন্ট্রোল ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করছে কলকাতা পুলিশ।