


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: নীলাচলে মহাপ্রভু। শিষ্য ও ভক্তরা বহুদিন তাঁর দেখা পাননি। ফলে বাংলা থেকে পুরী হেঁটে হেঁটেই চলেছে শয়ে শয়ে ভক্ত। তাঁদের কাঁধে ঝোলা। মাথায় ঝাঁকি। সে ঝালায় ভরে রয়েছে তাঁদের প্রাণাধিক প্রিয় প্রভুর প্রিয় খাবারদাবারগুলি। খাবারের বৈচিত্রে ভক্তদের মধ্যে নজর কাড়ে রাঘব পণ্ডিতের ঝালা। শ্রীচৈতন্য বিলীন হওয়ার পর ঝালা পাঠানোর রীতি যায় বন্ধ হয়ে। বরানগর পাঠবাড়ির মাধ্যমে তা ফের চালু হয় বটে তবে রাঘবভবন থেকে সরাসরি পুরী পর্যন্ত যেত না। কয়েকশো বছর পর এবার প্রথম রাঘবভবন থেকে ট্রেন পথে পুরী গেল ঝালা। ভক্তদের প্রাণ ঢালা আবেগ দেখে আগামী বছর ট্রেনের কামরা বুক করে পুরী পাঠানোর আগাম পরিকল্পনাও চলছে।
জানা যায়, চৈতন্য মহাপ্রভুর প্রিয় শিষ্য ছিলেন পানিহাটির রাঘব পণ্ডিত। চৈতন্য পানিহাটি এলে রাঘবভবনে উঠতেন। একইভাবে তিনি বরানগরের ভগবতাচার্যের বাড়িতেও গিয়েছিলেন। সেটি বর্তমানে পাঠবাড়ি নামে পরিচিত। রাঘববাবুর বাল্যবিধবা বোন দময়ন্তীদেবী ছিলেন ভক্তপ্রাণা। তিনি প্রভুকে পছন্দের নানা পদ রান্না করে খাওয়াতেন। দাদা পুরী গেলে মহাপ্রভুর জন্য বিভিন্ন ধরনের ধানের খইয়ের মোয়া, চিঁড়ে, বাদাম, ক্ষীর, তিল ও শুঁটিখণ্ডের নাড়ু, আতপ চালের মুড়ির মোয়া, আম্র কাসুন্দি, লেবু ও তেঁতুল সহ নানা ধরনের আচার, আমসত্ত, আমলকি, আমসি পাঠাতেন। এছাড়া সব্জি ও ফল হিসেবে কচু, থোড়, মোচা, কাঁঠাল, আম, আনারস সহ নানা শাকশব্জি পাঠাতেন। চাল ও ডাল ছাড়াও মশলা হিসেবে দিতেন লবঙ্গ, আদা, মরিচ, কর্পূর ইত্যাদি মশলা ও ঘি। এছাড়া মহাপ্রভুর তিলক সেবার জন্য যেত গঙ্গাজল ও মাটি। কালের নিয়মে সেই ঝালা পাঠানো বন্ধ হলেও বাংলা ১২৯৯ সালে বরানগর পাঠবাড়ির শ্রী শ্রী রাধারমণ চরণ দাস দেব মহারাজের উদ্যোগে পুরীতে রাঘবের ঝালি পাঠানোর রীতি শুরু হয়। রাঘবভবন ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ভক্তদের তৈরি খাবার জড়ো করে পাঠবাড়ি থেকে একসঙ্গে পুরীর গম্ভীরা পাঠানো হতো। এবারও রাঘবভবন থেকে পুরী পাঠানোর জন্য ঝালি বরানগর পাঠবাড়িতে পাঠানো হয়েছে। আবার ভবন থেকে পৃথকভাবে ৭২ জন ভক্ত কয়েক কুইন্টাল চাল, ডাল, সব্জি ও মশলা নিয়ে জগন্নাথ এক্সপ্রেসে পুরী গিয়েছেন। শ্রী শ্রী রাঘব পণ্ডিত সেবা সমিতির কোষাধ্যক্ষ সূর্যকান্ত কুণ্ডু বলেন, ‘ভক্তরা চেয়েছিলেন রাঘবের ঝালি সরাসরি রাঘব ভবন থেকে নিয়ে যেতে। তাই রীতি মেনে পাঠভবনে তা পাঠানোর পাশাপাশি ট্রেনেও ভক্তরা এখান থেকে নিয়ে গিয়েছেন।’ -নিজস্ব চিত্র