


দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ‘ন্যূনতম’ হলেও গত ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী বেড়েছে রেলের যাত্রী ভাড়া। প্রতি কিলোমিটারের মাত্র এক-দু’পয়সা। তাতে যাত্রীদের পকেটে তেমন চাপ পড়েনি। কিন্তু মাস ঘুরতে না ঘুরতেই আবার ট্রেনের টিকিটের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা! সৌজন্যে সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির এক ‘সুপারিশ’। সোমবারই সংসদে একটি রিপোর্ট পেশ করেছে রেল সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সেই রিপোর্টে কোষাগারের হাল ফেরাতে রেলমন্ত্রককে পণ্য এবং যাত্রী রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে। এমনকী, জোর দিতে বলা হয়েছে ‘ইনোভেটিভ প্রাইসিং স্ট্র্যাটেজি’র উপরেও। ফলে সেই মধ্যবিত্ত যাত্রীদের পকেটেই চাপ পড়ার আশঙ্কা চরমে। অথচ সমাজের প্রান্তিক স্তরের মানুষের কথা মাথায় রেখেই রেল পরিষেবা দেওয়ার কথা বিভিন্ন সময় ঘোষণা করেছে মোদি সরকার। বাস্তবে আদৌ কি তা মেনে চলে কেন্দ্রের শাসকপক্ষ? সংসদীয় কমিটির সঙ্গে সরকারের কাজকর্ম সংক্রান্ত কোনও সম্পর্ক নেই ঠিকই। কিন্তু ঘটনাচক্রে যে কমিটি এহেন ‘সুপারিশ’ করেছে, তার চেয়ারম্যান সি এম রমেশ স্বয়ং বিজেপির সাংসদ!
১০০ টাকা আয় করতে রেলের যত খরচ হয়, সেই ‘অপারেটিং রেশিও’র হাল দেখে রিপোর্টে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ১০০ টাকা আয় করতে সর্বদা ৯৮ টাকারও বেশি খরচ করতে হচ্ছে রেলকে। অবিলম্বে এই পরিস্থিতি শোধরানো দরকার। এই সংশোধনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবেই পণ্য এবং যাত্রী রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির সুপারিশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, যাত্রী ভাড়া বৃদ্ধি না হলে ‘প্যাসেঞ্জার ট্রাফিক রেভিনিউ’ বাড়ানো কার্যত অসম্ভব। স্বাভাবিকভাবেই এই রিপোর্টে রেল ভাড়া বৃদ্ধির জল্পনা মাথাচাড়া দিয়েছে। যাত্রীদের একটি অংশের প্রশ্ন, বারবার কেন ভাড়া বৃদ্ধি করিয়েই আয়ের পথ খুঁজতে হবে মোদি সরকারকে? এছাড়াও আয়ের একাধিক পথ রয়েছে। রেলের পরিভাষায় যাকে বলে ‘এনএফআর’ অথবা ‘নন-ফেয়ার রেভিনিউ’। আরও বেশি করে এই সংক্রান্ত পদক্ষেপ করা হচ্ছে না কেন?
প্রসঙ্গক্রমে নন-ফেয়ার রেভিনিউয়ের উল্লেখও করেছে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি। তবে বিশেষভাবে জোর দিতে বলা হয়েছে ফ্রেট এবং প্যাসেঞ্জার ট্রাফিক রেভিনিউ বৃদ্ধির উপর। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং কাজকর্মের খরচ কমানো ছাড়া অপারেটিং রেশিওর হাল ফেরানোর বিশেষ কোনও রাস্তা নেই। রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, ২০২২-২৩ আর্থিক বছর থেকেই রেলের অপারেটিং রেশিও ৯৮ শতাংশের উপরে। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে তা ৯৮.৯০ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে লক্ষ্যমাত্রা ৯৮.৪৩ শতাংশ স্থির করেছে রেল। অর্থাৎ, ১০০ টাকা আয়ে খরচের পরিমাণ ৯৮ টাকা ৪৩ পয়সায় আটকে রাখার টার্গেট। রেলের অবশ্য জবাব, বিভিন্ন সময় স্পেশাল ট্রেন কিংবা বন্দে ভারত, অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের মতো পরিষেবা অথবা ফ্লেক্সি ফেয়ার ব্যবস্থা কার্যকরের মতো পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। যদিও যাত্রী ভাড়া বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে অবশ্য স্পষ্ট কোনও ইঙ্গিত মেলেনি। শিয়ালদহ স্টেশনে পিটিআইয়ের তোলা ছবি।