


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুধবার অক্ষয় তৃতীয়ার দিন কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় অস্বাভাবিক বেশি গরম পড়তে চলেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো এমন ভুয়ো খবর আটকাতে সক্রিয় হল রাজ্য প্রশাসন। সামাজিক মাধ্যমে রাজ্য পুলিস ও রাজ্য সরকারের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দপ্তর থেকে বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ ভুয়ো (ফেক) তথ্য। কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে, তা নিয়ে পুলিসের সাইবার অপরাধ দমন বিভাগ তদন্তে নেমেছে।
প্রসঙ্গত, ওইদিন বেলা ৩টে নাগাদ দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাছাড়া অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষ্যে ওইদিন রাজ্যজুড়ে বহু অনুষ্ঠান হবে। অসংখ্য মানুষ মন্দিরে মন্দিরে পুজো দিতে যাবেন। সামাজিক মাধ্যমে এই ধরনের ভুয়ো খবর ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করার পিছনে খারাপ উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেই সন্দেহ করছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো বার্তাটি ছড়ানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের নামে। তাতে দাবি করা হয়েছে, আগামী ৩০ এপ্রিল এমন একটি দিন হতে চলেছে, যেদিনের তাপমাত্রা পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে স্মরণীয় থেকে যাবে! আবহাওয়া এবং স্বাস্থ্য দপ্তর নাকি যৌথভাবে গবেষণা করে এটা জেনেছে। ওইদিন বেলা ৩টের পর নাকি দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা ৪৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়াবে। এই পরিস্থিতি মানুষের শরীরিক সিস্টেমের উপর প্রভাব ফেলে ‘থার্মাল শক ফেজ’ তৈরি করতে পারে। এই অবস্থা হতে পারে হাওড়া-কলকাতার কিছু অংশ ছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, পূর্ব বর্ধমান এবং মুর্শিদাবাদ জেলায়। ওইদিন বেলা ২টো থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাইরে বেরনো ‘আইনত নিষিদ্ধ’ হতে পারেও বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে ওই ভুয়ো খবরে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো এই বার্তাটি যেভাবে লেখা হয়েছে, তাতে অনেক তথ্যগত ফাঁক থাকলেও সাধারণ মানুষের অনেকের পক্ষে তা ধরে ফেলা সম্ভব নয়। মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে কয়েকদিন ধরে এই ফেক নিউজ ছড়াতে শুরু করার পর পুলিস-প্রশাসন শনিবার এই ব্যাপারে পাল্টা বার্তা দেয়। আগামী কয়েকদিনের জন্য, আবহাওয়া দপ্তরের তরফেও দক্ষিণবঙ্গের কোনও অঞ্চলের জন্য তাপপ্রবাহের কোনও সতর্কবার্তা নেই। বরং দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে এখন কালবৈশাখীর ঝড়বৃষ্টি চলবে বলেই জানিয়েছে তারা।