


দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি; সামুদ্রিক পরিবেশেও ক্ষয় হবে না। ক্রমাগত লবণাক্ত নোনা জলের সংস্পর্শে এলেও অক্ষত থাকবে স্টিল দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পরিকাঠামো। ফলে কোস্টাল ব্রিজ বা মেরিন পাইপলাইনে কোনওরকম দুর্ঘটনার আশঙ্কা আর থাকবে না। সুরক্ষিত থাকবে জাহাজও। এমনকি ক্ষয় রোধে এই বিশেষ ‘কোটিং’ ব্যবহার করা যাবে স্টিলের বাসনপত্র তৈরিতেও। এমনই চমকপ্রদ আবিষ্কারের কৃতিত্বের অধিকারী এক বঙ্গ সন্তান—আইআইটি গুয়াহাটির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক চন্দন দাস। পরীক্ষাগারে ইতিমধ্যেই এর সাফল্য প্রমাণিত হয়েছে। তবে এ নিয়ে আরও কিছু আনুষঙ্গিক পরীক্ষা চলছে। তা শেষ হলেই এর বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য তোড়জোড় শুরু হবে। বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, এর ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমবে। পাশাপাশি পরিকাঠামোর ক্ষয় কম হওয়ায় সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে। গোটা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক উদ্ভাবন হিসেবে মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল। এহেন আবিষ্কারে অধ্যাপক দাসের সহযোগী রিসার্চ স্কলার ডঃ অনিল কুমার।
জানা যাচ্ছে, সামুদ্রিক পরিবেশ এবং লবণাক্ত জলের সংস্পর্শে থাকায় সমুদ্র তীরবর্তী প্ল্যাটফর্ম, সমুদ্র সেতু, বন্দর সংক্রান্ত একাধিক পরিকাঠামো, জাহাজ নির্মাণ বা মেরিন পাইপলাইনে যে ধাতু ব্যবহৃত হয়, তার ক্ষয় খুব দ্রুত হতে থাকে। ফলে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করলে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে, অন্যদিকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খরচও হয় প্রচুর। বিশেষজ্ঞদের দাবি, নয়া এই আবিষ্কার সরকারকে আর্থিকভাবে অনেকটাই সুরাহা দেবে। এই বিষয়ে অধ্যাপক চন্দন দাস ‘বর্তমান’কে জানান, ‘রিডিউসড গ্রাফিন অক্সাইড’ (আরজিও), ‘জিঙ্ক অক্সাইড’ (জেডএনও) এবং ‘পলিঅ্যানাইলিন’ (পিএএনআই) একসঙ্গে ব্যবহার করে এই বিশেষ ‘কোটিং’ উদ্ভাবন করা হয়েছে। এই কোটিংয়ের ফলে ক্ষয় প্রায় হবে না বললেই চলে।
জানা যাচ্ছে, রিডিউসড গ্রাফিন অক্সাইডের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে জিঙ্ক অক্সাইড ন্যানো-রড। এরপর সেটিকে ঢেকে দেওয়া হয়েছে পলিঅ্যানাইলিনে। এবং তৈরি হয়েছে বিশেষ ওই ‘কোটিং’। গবেষক দলের আক্ষেপ, আরও আগে এই ‘কোটিং’ তৈরি করা গেলে হয়তো ১৯৮৪ সালে ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার মতো মর্মান্তিক একটি অধ্যায় এড়ানো যেত। ‘অ্যাডভান্সড ইঞ্জিনিয়ারিং মেটেরিয়ালস’ শীর্ষক জার্নালে ইতিমধ্যেই বঙ্গ সন্তানের এই রিসার্চ পেপার প্রকাশিত হয়েছে। অধ্যাপক চন্দন দাস।