


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নবান্ন অভিযানে সবচেয়ে বেশি আলোড়িত অভয়ার মায়ের মাথায় আঘাত। নিহত চিকিৎসকের মায়ের দাবি, পুলিস মাটিতে ফেলে তাঁকে মারধর করেছে। লাঠির আঘাত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে সেই দাবি নস্যাৎ করল লালবাজার। যুগ্ম কমিশনার (সদর) মিরাজ খালিদ বলেন, ‘পুলিসের প্রচুর ক্যামেরা ঘটনার ভিডিওগ্রাফি করেছে। প্রচুর ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে। কিন্তু, অভয়ার মাকে কোনও পুলিসকর্মী মারধর করছেন, এমন কোনও ভিডিও প্রমাণ মেলেনি।’ একইসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের কোনও ক্যামেরাতেও মারধরের ফুটেজ থাকলে, তা জমা দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে লালবাজার।
ঘটনার দিন তিন রকম ক্যামেরায় গোটা কর্মকাণ্ড শ্যুট করেছে কলকাতা পুলিস। নবান্ন অভিযানের মিছিলে নজরদারি চালাচ্ছিল হেড কোয়ার্টার ফোর্সের ভিডিও ক্যামেরা। আইন-শৃঙ্খলার ডিউটিতে থাকা সব পুলিসের উর্দিতে লাগানো ছিল ‘বডি ক্যাম’। তার সবকটি অন ছিল বলে লালবাজারের দাবি। শুধু তাই নয়, মিছিলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আকাশপথে নজরদারি চালাচ্ছিল ড্রোন। তাতেও রেকর্ড হয়েছে।
সূত্রের খবর, অকুস্থলে থাকা তিন ধরনের ক্যামেরা ছাড়াও ট্রাফিক বিভাগের ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হয়। বিভিন্ন কোণ থেকে ২৫টির বেশি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা সত্ত্বেও, অভয়ার মায়ের উপর আক্রমণের কোনও প্রমাণ মেলেনি। অন্যদিকে, সোমবার রাতে উর্দিধারীদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ পুলিস কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মাকে ই-মেলে জানান অভয়ার বাবা। তার ভিত্তিতে নিউ মার্কেট থানায় একটি জেনারেল ডায়েরি নিয়েছে পুলিস। লালবাজার জানিয়েছে, অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।
এদিন, নবান্ন অভিযানে সিপিকে নিয়ে বিরোধী দলনেতার অশালীন মন্তব্যের জেরে এবার সরব হলেন পুলিস পরিবারের সদস্যরা। প্রেস ক্লাবে সংবাদিক সম্মেলনে তাঁরা বলেন, ‘বিরোধী দলনেতার এধরনের মন্তব্যের তীব্র ধিক্কার জানাই। উনি শালীনতার সীমা ছাড়িয়েছেন। এমনকী, ডিসি এসএসডির দেহরক্ষীর প্রাণনাশের চেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানান তাঁরা। প্রতিবাদে মিছিল করে প্রেস ক্লাব থেকে করে গান্ধীমূর্তি পর্যন্ত যান পুলিস পরিবারের সদস্যরা।