


সান ডিয়েগো: একজন আগেই বেরিয়ে এসেছেন। অধীর আগ্রহে দ্বিতীয় সদস্যের জন্য অপেক্ষায় আসমুদ্রহিমাচল। বেশিক্ষণ লাগল না। বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘর্ষণে পুড়ে বাদামি হয়ে যাওয়া ড্রাগন ক্যাপসুল ‘গ্রেস’ থেকে হাঁটু মুড়ে বেরিয়ে এলেন শুভাংশু শুক্লা। মুখে চওড়া হাসি। সাফল্যের। হাত নাড়তে নাড়তে উঠে দাঁড়ালেন। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে পা রাখা প্রথম ভারতীয়ের ২০ দিনের মহাকাশযাত্রা শেষ! এবার অপেক্ষা আরও বড় অভিযানের। ২০২৭ সালে বাস্তব রূপ নেবে ভারতের ‘গগনযান’। অভিজ্ঞ শুভাংশুই ইসরোর সেই মিশনের ‘ফ্রন্টম্যান’!
স্পেস স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল সোমবার বিকেলে (ভারতীয় সময়)। মঙ্গলবার নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এলেন বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন। সঙ্গে অ্যাক্সিয়ম-৪ অভিযানের আরও তিন সদস্য। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর ৬ মিনিটের জন্য মহাকাশযানের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল মিশন কন্ট্রোলের। হঠাৎ এমন ঘটনায় উদ্বেগ বেড়ে যায় বিজ্ঞানীদের। যদিও পরে সেই সমস্যার সমাধান হয়। মার্কিন সময় ভোররাত আড়াইটে নাগাদ ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে ‘স্প্ল্যাশডাউন’ হওয়ামাত্র উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে গোটা বিশ্ব। ভারতের ঘড়িতে তখন দুপুর। লাইভ ভিডিওতে ছেলেকে ক্যাপসুল থেকে বেরিয়ে আসতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন শুভাংশুর বাবা-মা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছাবার্তা, ‘এই অভিযান গগনযানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে আরও একটি মাইলফলক।’
২৫ জুন ফ্লোরিডা থেকে পেগি হুইটসন, স্লাওস উজনানস্কি ও টিবর কাপুর সঙ্গে মহাকাশে পাড়ি দেন শুভাংশু। ২৬ জুন স্পেস স্টেশনে প্রবেশ করেন চার নভশ্চর। দেখতে দেখতে কেটে যায় ১৮ দিন। তার মধ্যেই ৩১০ বার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে প্রায় দেড় কোটি কিমি যাত্রা করে ফেলেছেন শুভাংশুরা। সেরে ফেলেছেন ৬০টির বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সোমবার নির্ধারিত সময়ের একটু পরে, ভারতীয় সময় বিকেল ৪টে ৪৫ নাগাদ স্পেস স্টেশন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় স্পেসএক্সের মহাকাশযান। শুরু হয় সাড়ে ২২ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রা। কক্ষপথ বদলে পৃথিবীর দিকে এগতে থাকেন চার নভশ্চর। পুরোটাই স্বয়ংক্রিয় পথে।
মঙ্গলবার ভোররাতে নির্ধারিত সময়ে প্রথমে ড্রাগনের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ধীরে ধীরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ‘গ্রেস’। প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ফুটে খোলে প্রধান চারটি প্যারাসুট। ভাসতে ভাসতে প্রশান্ত মহাসাগরে নেমে আসে গ্রেস। আগেই সেখানে প্রস্তুত ছিল রিকভারি ভেহিকল ‘শ্যানন’। অবতরণের পর ক্যাপসুলটিকে জাহাজে তুলে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর ড্রাগনের সাইড হ্যাচ খুলে বেরিয়ে আসেন চারজন। তবে এখনই শুভাংশুর বাড়ি ফেরা হচ্ছে না। কমপক্ষে সাতদিন বিশেষ পর্যবেক্ষণে থাকবেন চার নভশ্চর।