


ইসলামাবাদ: ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৩৯ নাগাদ জি-১১ এলাকায় জেলা আদালতের বাইরে জোরালো বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, পুলিশের একটি গাড়ির কাছে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। ঘটনায় কমপক্ষে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত আরও ৩০। জখমদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ফিদায়েঁ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাক অভ্যন্তরীণমন্ত্রী মোহসিন নাকভি। তিনি বলেন, ‘হামলাকারী আদালতের বাইরে ১২ মিনিট দাঁড়িয়েছিল। প্রথমে সে ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেটা না হওয়ায় পুলিশের গাড়িকে নিশানা বানায় সে। ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। হমালার সবরকম কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ ঘটনার পরেই আদালত চত্বর সহ একাধিক হাইপ্রোফাইল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। ইসলামাবাদ সহ পার্শ্ববর্তী শহরগুলিতে জারি হাই অ্যালার্ট। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন পাক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জরদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এখন পর্যন্ত কোনও জঙ্গি গোষ্ঠী এখনও হামলার দায় স্বীকার করেনি। যদিও মঙ্গলবারের আত্মঘাতী হামলায় ভারতের দিকেই আঙুল তুলেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। আফগান সীমান্তে ক্যাডেট কলেজ কাণ্ডেও নয়াদিল্লিকে দুষেছেন তিনি। কোনও তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই শাহবাজের তোপ, ‘দু’টি হামলা ভারতের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের উজ্জ্বল উদাহরণ। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ওদের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাব।’
ঘটনার সময় আদালতে একাধিক মামলার শুনানি চলছিল। তাই ভিড় জমিয়েছিলেন বহ মানুষ। উপস্থিত ছিলেন বহু আইনজীবী। বিস্ফোরণের জেরে কেঁপে ওঠে গোটা আদালত চত্বর। অনেক দূর পর্যন্ত সেই শব্দ শোনা যায়। ঘটনার একাধিক ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, পুলিশের গাড়ি দাউদাউ করে জ্বলছে। আশেপাশে থাকা একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে চারিদিক। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ক্ষতবিক্ষত দেহ। রক্তমাখা পোশাক পরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন আইনজীবীরা।