


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘বঙ্কিমদা’র পর এবার ‘স্বামী’ রামকৃষ্ণ! বাংলায় বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে ‘বাঙালি’ সাজার মরিয়া চেষ্টায় ফের ভুল করলেন পদ্মপার্টির ‘পোস্টার বয়’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার জন্মতিথিতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী ঠাকুর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে ‘স্বামী’ বলে সম্বোধন করেন। বাঙালি মননে অমলিন হয়ে থাকা ঠাকুরের নামের সঙ্গে ‘স্বামী’ জুড়ে দেওয়ার ঘটনায় তুমুল আলোড়ন পড়েছে। পালটা এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করার সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রীকে মমতার পরামর্শ—‘দয়া করে বাংলার আবেগকে এভাবে বারবার আঘাত করা বন্ধ করুন।’ এর আগে সংসদে দাঁড়িয়ে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনকে ‘মাস্টার’ সম্বোধন করে সেই বিতর্ক আরও বাড়িয়েছিলেন। এবার ঠাকুরকে ‘স্বামী’ সম্বোধনে বাংলা তথা গোটা দেশের কোটি কোটি রামকৃষ্ণ অনুরাগীকে ‘স্তম্ভিত’ করেছেন তিনি।
তবে একা প্রধানমন্ত্রী নন, বাঙালি সাজতে চেয়ে মনীষীদের নাম নিয়ে ‘ছেলেখেলা’ তাঁর দলের ট্রেন্ড। অমিত শাহ নিজে কবিগুরুকে ‘রবিন্দরনাথ সানিয়াল’ বলেছিলেন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা সুভাষচন্দ্র বসুকে আখ্যা দিয়েছিলেন ‘সুভাষচন্দ্র প্যালেস’ বলে। বিতর্ক বেড়েছে। কিন্তু বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের এমন অবমাননাকর সম্বোধন বন্ধ হয়নি। তারই নতুন সংযোজন মোদির ‘স্বামী রামকৃষ্ণ’। এর প্রতিক্রিয়ায় মমতা লিখেছেন—‘আমি আবারও স্তম্ভিত। শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ আপামর মানুষের কাছে ঠাকুর হিসাবে পূজিত। ঠাকুরকে স্বামী বলার মানে বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে চরম অজ্ঞতা ও অবহেলা ছাড়া আর কিছুই নয়।’ বিজেপির পোস্টার বয়ের প্রতি তাঁর তোপ—‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলার মহান ব্যক্তিত্বদের প্রতি তাঁর সাংস্কৃতিক অসংবেদনশীলতা দেখিয়েছেন। মহান এই সাধকের নামের সঙ্গে একটি অনুপযুক্ত উপসর্গ স্বামী যোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।’ মমতা আরও লিখেছেন—‘শ্রী রামকৃষ্ণদেবকে ঠাকুর বলে সম্মানিত করা হয়, পুজো করা হয়। তাঁর শিষ্যরা গুরুদেবের মৃত্যুর পর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন গঠন করেন। সেই ত্যাগী বা সন্ন্যাসী শিষ্যদের স্বামী নামে সম্বোধন করা হয়। কিন্তু স্বয়ং আচার্যদেব সবসময় ঠাকুর নামেই পরিচিত। রামকৃষ্ণ সংঘের পবিত্র ত্রয়ী—ঠাকুর, মা ও স্বামীজি, সেখানেও তিনি ঠাকুর। সারদাদেবী মা এবং বিবেকানন্দ স্বামীজি উপাধিতে অ্যাখ্যায়িত।’
এই পর্বেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি মমতার আবেদন—‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, বাংলার মহান ব্যক্তিত্বদের জন্য নতুন এই সম্বোধন ও উপমা বন্ধ করুন। তাঁদের জন্য রোজ রোজ নতুন বিশেষণের জন্ম দেওয়ার কোনো দরকার নেই। দয়া করে বাংলার আবেগকে এভাবে বারবার আঘাত করবেন না।’ রামকৃষ্ণ অনুরাগী, ভক্ত ও শিষ্যদের মতে, ১৮৬৪ সালে তোতাপুরী নামে এক বৈদান্তিক সন্ন্যাসীর কাছে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন পূর্বাশ্রমের গদাধর চট্টোপাধ্যায়। তোতাপুরী তাঁর নাম দেন রামকৃষ্ণ পরমহংস। বৈদান্তিক সাধনার সর্বোচ্চ মার্গে পৌঁছেই তাঁর এই উপাধি... যুগাবতার রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব।