


তেহরান: চিকিত্সার জন্য সম্ভবত রাশিয়ার কোনো হাসপাতালে ভরতি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। চলতি যুদ্ধের মধ্যে এমনই দাবি সামনে এসেছে। যদিও এই খবরের সত্যতা খারিজ করে দিল ইরান। একইসঙ্গে মোজতাবা আমেরিকাকে নতুন করে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
মোজতাবা সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত থামাতে কোনো প্রস্তাবে সাড়া দেবেন না। আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে হারিয়েই থামবে তেহরান। সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানকে প্রস্তাব দিয়েছিল দুটি মধ্যস্থতাকারী দেশ। কিন্তু সেই প্রস্তাব ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন মোজতবা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় মোজতবার বাবা তথা প্রাক্তন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেই প্রাণ হারান। ওই হামলায় মোজতাবা গুরুতর জখম হয়েছিলেন বলে খবর। কুয়েতের সংবাদপত্র আল-জারিদার দাবি, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় মোজতবাকে রাশিয়ায় এনে চিকিত্সা করানোর জন্য ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপরই গত বৃহস্পতিবার ৫৬ বছরের মোজতবাকে রুশ সামরিক বিমানে চাপিয়ে মস্কোয় নিয়ে আসা হয়।
পশ্চিম এশিয়ায় রাশিয়ার অন্যতম প্রধান সঙ্গী ইরান। ওই অঞ্চলে আমেরিকা এবং ন্যাটোর প্রভাব ঠেকাতে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করে চলেছে দুই দেশ। চলতি সংঘাতেও ইরানের পাশেই দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। তেহরানকে ঘুরপথে মস্কো সামরিক সাহায্য করে চলেছে বলে মনে করছেন অনেকে। আমেরিকা-ইজরায়েলের হামলায় আয়াতোল্লার মৃত্যুকে ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করে মস্কো। তাই মোজতবার চিকিত্সায় সাহায্য করার বিষয়টি অস্বাভাবিক নয় বলেও মত বিশেষজ্ঞদের। এই বিষয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি রাশিয়া। প্রেসিডেন্সিয়াল প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ‘আমরা এমন প্রতিবেদন নিয়ে কখনই মন্তব্য করি না।’ যদিও মোজতবার মস্কো যাওয়ার বিষয়টিকে সরাসরি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালির দাবি, এমন খবর প্রকাশ করে মানসিক যুদ্ধ চালাচ্ছে আমেরিকা-ইজরায়েল। তাঁর বক্তব্য, ‘ইরানের নেতাদের পালিয়ে গিয়ে গোপন স্থানে আশ্রয় নিতে হয় না। রাস্তায় মানুষের মাঝেই তাঁদের স্থান।’ ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, মোজতবা আহত হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।