


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা আসন নিয়ে দুই বাম শরিকের মধ্যে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে। এতকাল এই আসনে সিপিআই লড়াই করেছে বামফ্রন্টের হয়ে। এবার সোনারপুর দক্ষিণে প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে গোঁ ধরেছে সিপিএম। উলটোদিকে সিপিআই তাদের আসন অন্য কোনো শরিককে ছাড়তে নারাজ। তারা একপ্রকার জানিয়েই দিয়েছে, সোনারপুর দক্ষিণ কোনোভাবেই ছাড়া হবে না। এ প্রসঙ্গে সিপিএমের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সম্পাদক রতন বাগচী বলেন, আমরা পার্টিতে এ নিয়ে আলোচনা করেছি। পার্টিতে কী বলেছি তা প্রকাশ্যে বলব না। এই আসনে কারা লড়াই করবে এ বিষয়ে পার্টির রাজ্য কমিটি ও বামফ্রন্ট কমিটি যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই চূড়ান্ত হবে।
গত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে সিপিআই সোনারপুর দক্ষিণ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। তার আগে একাধিকবার এই আসনে লড়ে জিতেছে তারা। জেলার মধ্যে একমাত্র এই কেন্দ্রেই প্রার্থী দেয় সিপিআই। সেটিও কেন কেড়ে নিতে চাইছে সিপিএম, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
যদিও সিপিআই নেতৃত্বের দাবি, তারা হয়তো আরও বেশি আসনে লড়তে চাইছে। কারণ, আইএসএফের সঙ্গে আসন সমঝোতা যদি হয়, তখন অনেক আসন ছাড়তে হতে পারে সিপিএমকে। তাই শরিকদের থেকে আসন নিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করতে চাইছে তারা। তবে সিপিআই এই দাবির সঙ্গে সহমত নয়। কাস্তে-ধানের শিস প্রতীকে এতদিন যেসব আসনে লড়াই হয়েছে, সেগুলি হাতছাড়া করার প্রশ্নই ওঠে না। এই বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিএমের এক এরিয়া কমিটির নেতা বলেন, আমরা চেয়েছিলাম এই আসনটিতে এবার কাস্তে-হাতুড়ি-তারা প্রতীকে লড়াই হোক। কিন্তু রাজ্য পার্টি যা বলবে সেটাই মেনে নেব। শেষ পর্যন্ত যদি না মেলে তাহলে কিছু করার নেই। ২০১১ সাল থেকে সোনারপুর দক্ষিণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যে খুব লাভবান হয়েছে সিপিআই, এমনটা নয়। বরং প্রতিটি নির্বাচনেই ভোটের শতাংশ কমেছে। তবুও জেলার একমাত্র আসনটি অন্য বাম শরিককে ছাড়তে নারাজ সিপিআইয়ের শীর্ষ নেতৃত্ব।