


নয়াদিল্লি: অপারেশন সিন্দুরের প্রয়োজনীয়তা ও সাফল্য প্রচারে বিভিন্ন দেশে সর্বদলীয় প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে ভারত। তারই অংশ হিসেবে পানামায় গিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জমানায় বদলে যাওয়া ভারতের চিত্র তুলে ধরে নিজের দলেই সমালোচনার মুখে পড়লেন তিনি। কংগ্রেস নেতা উদিত রাজের কটাক্ষ, থারুর বিজেপির সুপার স্পোকসম্যান। চামচাগিরিতে তিনি গেরুয়া নেতাদেরও ছাপিয়ে যাচ্ছেন।
পানামায় প্রধানমন্ত্রী মোদি ও তাঁর জমানার ভূয়সী প্রশংসা করেন থারুর। তিনি বলেন, এখন জঙ্গিরা টের পেয়েছে, এবার তাদেরও অপরাধের মূল্য চোকাতে হবে। ২০১৫ সালে উরিতে হামলার পর নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানো হয়েছে। এর আগে আমরা কখনও এধরনের অপারেশন চালাইনি। এমনকী কার্গিল যুদ্ধের সময়ও আমরা নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করিনি। পুলওয়ামা হামলার পরও প্রত্যাঘাত করেছিলাম। সেবার আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে বালাকোটে জঙ্গিদের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। পহেলগাঁওয়ের পর আরও একধাপ এগিয়ে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গিদের ঘাঁটি, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সদর দপ্তর ধ্বংস করে দিয়েছে ভারতীয় সেনা।
পানামায় ওই অনুষ্ঠানে ঘুরিয়ে পূর্বতন কংগ্রেস সরকারের সমালোচনাও করছেন থারুর। তিনি জানিয়েছেন, প্রায় চার দশক ধরে একের পর এক জঙ্গি হামলা হয়েছে ভারতে। আন্তর্জাতিক পরিসরে অভিযোগ জানানো, তথ্য-প্রমাণ তুলে দেওয়া ছাড়া আর বিশেষ কিছু করা যায়নি। কিন্তু, এখন সময় বদলে গিয়েছে। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জঙ্গিরা ২৬ জন মহিলার সিঁথির সিঁদুর মুছে দিয়েছিল। তাই অপারেশন সিন্দুর অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেকথা পরিষ্কার করে দিয়েছেন। হত্যাকারী, ষড়যন্ত্রকারী ও হামলাকারীদের রক্তের বিনিময়ে মহিলাদের সিঁদুরের বদলা নেওয়া হয়েছে।
দলীয় সংসদের এহেন মোদি-ভজনায় বেজায় ক্ষুব্ধ উদিতরাজের প্রশ্ন, পূর্বতন কংগ্রেস সরকার কী করেছে, তা কি আদৌ জানেন থারুর? বর্তমানে বিজেপি সরকার ভারতীয় সেনার সাফল্য কেড়ে নিতে চাইছে। থারুর কার্যত গেরুয়া শিবিরের মুখপাত্র হয়ে উঠেছেন।