


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: স্রেফ দেশের মানুষকেই নয়। এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশকেও চাল-গম সরবরাহ করে খাদ্যে ‘বিশ্বগুরু’ হতে চান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারই লক্ষ্যে উৎপাদন বাড়ানোর টার্গেট নিচ্ছে কেন্দ্র। গোটা দেশে এখন ২১০ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে চাষ হয়। সেখানে হেক্টর পিছু ন্যূনতম ১০০ কেজি করে উৎপাদন বাড়াতে পারলেই খাদ্যশস্যর ভাণ্ডার উপচে পড়বে বলেই সরকারের অভিমত। যা দেশের লোককে সরবরাহ করেও বিদেশে পাঠানো যাবে। উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২৯ মে থেকে ১২ জুন দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ‘বিকশিত কৃষি সংকল্প অভিযান।’ ওড়িশার পুরী থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে।
এই কর্মসূচিতে গোটা দেশের ১৬ হাজার কৃষিবিজ্ঞানীকে মাঠে নামাচ্ছে মোদি সরকার। ২ হাজার ১৭০ টি প্রতিনিধিদলে ভাগ করে ৭২৩ জেলায় যাবেন তাঁরা। ৬৫ হাজার গ্রামে গিয়ে কথা বলবেন কৃষকের সঙ্গে। বোঝাবেন, কোন জমিতে কী ধরনের চাষ করলে ভালো। কোন জমিতে বছরে কতবার চাষ সম্ভব। এবং তা কোন কোন ফসলের। কোন ফসলের জন্য কী ধরনের সার, কীটনাশক দিলে ভালো- এমন সব পরামর্শ দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে তাঁরা কৃষকদের থেকে জানবেন, চাষাবাদে কী সমস্যা? কৃষকরা আদতে কী চাইছেন? কৃষকদের চাহিদা সরাসরি জেনে নিয়ে ভবিষ্যতে তার ওপরই গবেষণায় জোর দেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় কৃষি এবং কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেছেন, যুগান্তকারী এক কর্মসূচি শুরু হতে চলেছে। সরাসরি সংবাদ। দেশের প্রায় দেড় কোটি কৃষকের সঙ্গে এই বিকশিত কৃষি সংকল্প অভিযানে আলোচনা করা হবে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচার রিসার্চ (আইসিএআর)র ১১৩ টি ইনস্টিটিউট এবং ৭৩১ কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র এই কর্মসূচিতে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিচ্ছে। গোটা দেশে চাষবাসের চেহারাই বদলে যাবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ তো বটেই, আমাদের উৎপাদন বিদেশেরও অনেক দেশকে পাঠিয়ে তাদের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, ২০২৩-২৪ সালে দেশে খাদ্যশস্য উৎপন্ন হয়েছিল ৩১৫ মিলিয়ন টন। ২০২৪-২৫ সালে তা হয়েছে ৩৩০ মিলিয়ন টন। ফলে খাদ্যশস্যের অভাব হবে না ভারতের।