


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: আগামী বর্ষায় জল যন্ত্রণা থেকে হাওড়া শহরকে মুক্তি দিতে পাম্পিং স্টেশনের সংখ্যা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করতে চাইছে হাওড়া পুরসভা। শহরে দশটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্পিং স্টেশনের কাজ চলছে জোরকদমে। এর ফলে গত বছরের মতো এবারও ভারী বর্ষায় শহর জলমগ্ন হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেই জল নামানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে পুরসভা কর্তৃপক্ষ।
গত বছর বর্ষায় গোটা হাওড়া শহর জল যন্ত্রণার শিকার হয়। সব থেকে বেশিদিন ভুগতে হয়েছে শিবপুর, উত্তর ও দক্ষিণ হাওড়ার বাসিন্দাদের। বিশেষ করে শৈলেন মান্না সরণি সংলগ্ন ডুমুরজলা, ইছাপুর, এইচআইটি আবাসন, উত্তর হাওড়ার সীতানাথ বোস লেন, বিবিরবাগান, শশীভূষণ সরকার লেন, টিকিয়াপাড়া, সালকিয়া, দক্ষিণ হাওড়ার বি গার্ডেন লেন প্রভৃতি এলাকায় রীতিমতো বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। উচ্চ ক্ষমতার অতিরিক্ত পাম্প চালিয়েও জমা জল সরাতে কালঘাম ছুটেছিল পুরসভার। মূলত বেলগাছিয়া ভাগাড়ের মূল নিকাশিনালা বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই জল যন্ত্রণা নরকসম হয়ে উঠেছিল। হাওড়া শহরে এই মুহূর্তে মোট ৯টি পাম্পিং স্টেশন রয়েছে। আরও দশটি পাম্পিং স্টেশন তৈরির কাজ চলছে। আগামী দু’মাসের মধ্যেই প্রতিটি পাম্পিং স্টেশন প্রস্তুত রাখতে তৎপর পুরসভা।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তিনটি, দক্ষিণ হাওড়ায় দু’টি, উত্তর হাওড়ায় তিনটি, টিকিয়াপাড়া ও বেলগাছিয়ায় একটি করে পাম্পিং স্টেশন তৈরি হচ্ছে। নিকাশি ব্যবস্থার সংস্কার ও জমা জলের সমস্যা দূর করতে ইতিমধ্যেই ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য। সেই টাকাতেই পাম্পিং স্টেশনগুলি তৈরি করা হচ্ছে। পুরসভার দাবি, ১০ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচুর সংখ্যক মানুষের বসবাস। ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ থাকেন এখানে। এই দু’টি ওয়ার্ডের জমা জল সরাতে সীতানাথ বোস লেনে নতুন পাম্প হাউস তৈরি হচ্ছে। এই কাজ প্রায় শেষের পথে। পাশেই তৈরি করা হয়েছে একটি রিজার্ভার। নতুন পাম্পের সাহায্যে বৃষ্টির জমা জল ধরে রখা হবে রিজার্ভারে। এরপর ধাপে ধাপে পাইপলাইনের সাহায্যে সেই জল গঙ্গায় ফেলা হবে। একইভাবে বাকি ৯টি পাম্পিং স্টেশনের ক্ষেত্রেও জমা জল সরাতে নিকাশিনালাকে আরও প্রশস্ত করা হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র