


অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: বাঙালি মনীষী এবং শিক্ষাবিদরা প্রায়শই উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের সমালোচনায় বিদ্ধ হন। এই পথে হাঁটেন অনেক বিজেপি নেতাও। এই আবহে নীচু ক্লাস থেকেই পড়ুয়ারা যাতে বাংলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের চিনতে পারে, তাঁদের কাজের গভীরতার আন্দাজ পায়, সেই উদ্যোগ নিয়েছে তৃণমূল সরকার। অষ্টম শ্রেণির আর্ট অ্যান্ড এডুকেশন বিষয়ের সিলেবাসে তাই ঢুকছে নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন, অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়দের জীবনী। বিজেপির সমালোচনার জন্য অমর্ত্য সেন প্রায়ই গেরুয়া বাহিনীর তোপের মুখে পড়েন। আর অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় দরিদ্রদের হাতে সরাসরি টাকা পৌঁছে দেওয়ার প্রবল সমর্থক। ‘কন্যাশ্রী’ থেকে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো তৃণমূল সরকারের প্রকল্প প্রত্যক্ষভাবে সেই পথেই চলে।
উগ্র হিন্দুত্ববাদের পালটা হিসেবে স্বামী বিবেকানন্দের আধ্যাত্মিকতা ও হিন্দু ধর্মকে তুলে ধরা হয়। তাঁর ‘স্বদেশমন্ত্র’ উদ্বুদ্ধ করেছিল সুভাষচন্দ্র বসুকেও। সেটিরও অংশবিশেষ রাখা হয়েছে সিলেবাসে। এর পাশাপাশি গিরিশ ঘোষ, নটি বিনোদিনী, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, নন্দলাল বসু, চিন্তামণি করের মতো বিভিন্ন সময়ে নাটক, সাহিত্য চিত্রকলার মাধ্যমে যাঁরা বাংলার সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাঁদের কাজ ও জীবনী রাখা হয়েছে সিলেবাসে। এই সিলেবাসের রূপকার অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সোমবারই স্বামীজির জন্মদিন ছিল। নতুন শিক্ষাবর্ষে ছাত্রছাত্রীরা তাঁর ‘স্বদেশমন্ত্র’ পড়তে শুরু করবে, এটা বেশ ভালো ব্যাপার। তাছাড়া, বাংলার বিভিন্ন মনীষীর জীবনী পড়েও তাঁদের মধ্যে ছোটো থেকেই একটা কৌতূহল তৈরি হবে।’
জীবনীর ক্ষেত্রে একটি বিস্তীর্ণ সময়কালকে ধরা হয়েছে। তাতে রয়েছেন সুরকার সলিল চৌধুরী, নাট্যকার শম্ভূ মিত্র, উৎপল দত্ত, চিত্রকর ও ভাস্কর রামকিঙ্কর বেজের মতো ব্যক্তিত্বরা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠেই এই সরকার গুণী মানুষদের জীবনী সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে শুধু মনীষীদের সঙ্গে পরিচয় ঘটানোই নয়, আর্ট অ্যান্ড ওয়ার্ক এডুকেশনের সিলেবাসটি আগাগোড়া আধুনিকভাবে তৈরি করা হয়েছে। তাতে যেমন কম্পিউটারের খুঁটিনাটি প্রয়োগের বিষয় রয়েছে, তেমনই রবীন্দ্র বা নজরুলগীতির পাশাপাশি বিভিন্ন ঘরানার সঙ্গীতও পড়ুয়াদের শিখতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি সৃজনশীল চিত্রকলা, নৃত্যশৈলী, সন্তুর এবং এসরাজের মতো বাদ্যযন্ত্রের প্রাথমিক পাঠদানের কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ, বাঙালি একটা সময় যে ধরনের সৃজনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক চর্চায় মগ্ন থাকত, তাই যেন আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা ধরা পড়েছে এই সিলেবাসে।