


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কাজিপাড়া মোড়। ফোরশোর রোড ও জি টি রোডের সঙ্গে বিদ্যাসাগর সেতু, কোনা এক্সপ্রেসওয়ে, আন্দুল রোডকে যুক্ত করেছে এই গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক জংশন। সকাল থেকে সন্ধ্যা, গোটা কাজিপাড়া মোড় এখন অস্থায়ী টোটো স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, পুলিশের সামনেই সিগন্যাল না মেনে দেদার যাত্রী নামায় বাসগুলি, চলে রাস্তা পারাপার। ফলে নিত্য যানজটের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
কথায় বলে, গোড়ায় গণ্ডগোল। জি টি রোডে দিনভর যানজটের প্রকৃত উৎস খুঁজতে হলে যেতে হবে কাজিপাড়া মোড়ে। মন্দিরতলা, বি গার্ডেন, দানেশ শেখ লেন, চুনাভাটি, আলমপুর থেকে আসা সমস্ত বাস এই মোড় পার করেই হাওড়া ময়দানের দিকে এগোয়। দীঘা থেকে আসা বাসগুলিও এই মোড় দিয়ে হাওড়া বাসস্ট্যান্ডে যায়। কাজিপাড়া মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যাল রয়েছে। সেগুলিতে লাল-সবুজ আলো নিয়মিত জ্বলে। রয়েছে ট্রাফিক পুলিশের কিয়স্ক। ট্রাফিক সামলানোর দায়িত্বে থাকেন আধিকারিক থেকে সিভিক ভলান্টিয়ার। অথচ পুলিশের সামনেই যত্রতত্র বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা নামানো চলে। দিনের ব্যস্ত সময়েও সিগন্যাল মানার বালাই নেই। সিগন্যাল সবুজ হওয়ার আগেই রাস্তা পার করতে অটো, টোটো, বাইক, বাস, লরির হুড়োহুড়ি লেগে যায়। ট্রাফিকের অব্যবস্থার কারণেই মাঝেমধ্যে যানজট ছড়িয়ে যায় প্রায় বেতাইতলা পর্যন্ত।
এদিকে, গোটা কাজিপাড়া মোড়কে যেন মাকড়সার জালের মতো ঘিরে রেখেছে অজস্র টোটো। চারদিকে গজিয়ে উঠেছে একাধিক অস্থায়ী টোটোস্ট্যান্ড। আশপাশের এলাকা তো বটেই, সাঁকরাইল, আন্দুল থেকেও টোটো এসে জড়ো হচ্ছে এখানে। অবাধে চলছে হাওড়া ময়দানের জন্য যাত্রী তোলা।
ট্রাফিকে কর্মরত আধিকারিকদের কথায়, বেপরোয়া বাইক ও গাড়ি চালকদের নিয়মিত জরিমানা করা হয়। ট্রাফিক আইন না মানলে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। তবে অগুনতি টোটোর দাপাদাপিতে ট্রাফিক ব্যবস্থা যে চূড়ান্ত ব্যাহত হচ্ছে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন তাঁরা। নিত্যযাত্রীদের দাবি, পুলিশের কড়াকড়ি শুধু নজরে পড়ে উৎসবের দিনগুলিতেই। সেই সময় সকাল-সন্ধ্যা কাজিপাড়া মোড়ে নাকা চেকিং চলে। অনেকেই বলেন, কাজিপাড়া মোড়ে রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। সেই জায়গাটি দিনের পর দিন মেরামত করা হয় না। ফলে প্রায়ই ছোটোখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। হাওড়া সিটি পুলিশের (ট্রাফিক) এক আধিকারিক বলেন, ‘গোটা হাওড়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ইন্টিগ্রেটেড ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক জংশনগুলিতে ভিড় সামাল দিতে বেশ কিছু পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।’