


নয়াদিল্লি: লালকেল্লা বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। জঙ্গি সংগঠন জয়েশের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত আত্মঘাতী হামলাকারী ডাঃ উমর আসলে ছিল একজন ‘শ্যু বম্বার’। জুতোর মধ্যে রাখা ট্রিগারের মাধ্যমেই আই-২০ গাড়িটি বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয় সে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ১৪ জন। জখম বহু।
গত ১০ নভেম্বর লালকেল্লা মেট্রোর কাছে বিস্ফোরণের পরেই তদন্তে নামে এনআইএ। উঠে আসে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তদন্তকারীদের অনুমান, দিল্লির হামলায় ট্রাইঅ্যাসটোন ট্রাইপারওক্সাইড বা টিএটিপি নামে নতুন ধরনের শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয়েছিল। যা ‘মাদার অফ স্যাটান’ নামে পরিচিত। অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো রাসায়নিকের সঙ্গে তা মিশিয়ে তৈরি হয় ‘আইইডি’। আর এই বিস্ফোরণের জন্য ট্রিগার হিসেবেই নিজের জুতো ব্যবহার করেছিল ডাঃ উমর উন নবি।
কেন এই অনুমান? গোয়েন্দা সূত্রে খবর, হামলায় ব্যবহৃত আই-২০ গাড়িটির ড্রাইভার সিটের টায়ারের দিকে একটি কালো রঙের স্পোর্টস শ্যু মেলে। ডিএনএ পরীক্ষার পর তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন, জুতোটি উমরেরই। আর সেই জুতোর ভিতরেই আটকানো ছিল একটি ধাতব বস্তু। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ওই ধাতব বস্তুটিই আসলে ট্রিগার। তার মাধ্যমেই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
এই প্রসঙ্গেই উঠে এসেছে রিচার্ড রিডের নাম। কে রিচার্ড? আল কায়েদার সদস্য এই ব্রিটিশ সন্ত্রাসবাদী ৯/১১ হামলার পরেই আমেরিকান এয়ারলাইন্সে আত্মঘাতী হামলার ছক কষেছিল। ২০০১ সালে টুইন টাওয়ার হামলার কিছুদিন পরেই প্যারিস থেকে মায়ামিগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৬৩ উড়ানে জুতোর মধ্যে বিস্ফোরক নিয়ে উঠেছিল রিচার্ড। কিন্তু জুতোটি ভিজে থাকায় বোমাটি ডিটোনেট করার চেষ্টা করছিল সে। বিষয়টি নজরে পড়ে সহযাত্রী ও কেবিন ক্রুদের। তাঁরাই তৎপর হয়ে ধরে ফেলে রিচার্ডকে। দেখা যায়, জুতোর সোলের মধ্যে বিশেষ একটি গর্ত করে রাখা ছিল টিএটিপি বিস্ফোরক। এর পরেই রিচার্ডের নাম হয়ে যায় ‘শ্যু বম্বার’। দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তকারীদের অনুমান, ডাঃ উমরও ঠিক একই কৌশল নিয়েছিল।