


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একই প্রশিক্ষণ রয়েছে সবার। তবু রাজ্যের পলিটেকনিক কলেজের এক শ্রেণির শিক্ষক পদোন্নতি পাচ্ছেন। আদালতের তেমনই নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু আইনি লড়াইয়ে না যাওয়ায় সেই পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বাকিরা। এ যেন ঠিক রাজনৈতিক উলটপুরাণ! বামপন্থী সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল (গভর্নমেন্ট অ্যান্ড স্পনসর্ড) পলিটেকনিক টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের ৬৫ জন সদস্য এই পদোন্নতির আওতায় এসেছেন। অথচ তৃণমূলের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের (পলিটেকনিক ব্রাঞ্চ) সদস্যরা তা থেকে এখনও বঞ্চিত। এর ফলে রীতিমতো চাপে পড়েছে পলিটেকনিকের ফেডারেশন নেতৃত্ব।
প্রযুক্তি শিক্ষার কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থা এআইসিটিই’র একটি নির্দেশ ঘিরেই সমস্যার সূত্রপাত। প্রথমে তারা বলেছিল, ‘টেকিপ’ বা ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে দু’টি এক সপ্তাহের কোর্স করা থাকলে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন। তবে সেই সময় এই ধরনের কোর্স করার সুযোগ কম ছিল। তাই বহু শিক্ষক সমমানের কোর্স করেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ, কলকাতা থেকে। তবে দু’টি কোর্স যে সমতুল, সেই স্বীকৃতি তখনও দেয়নি এআইসিটিই। কারিগরি শিক্ষাদপ্তরের তদানীন্তন ডিরেক্টর অব টেকনিক্যাল এডুকেশন একটি অর্ডার জারি করে এটির স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। সেটা আবার দপ্তর মানেনি। পরে অবশ্য এআইসিটিই এই কোর্সটিকেও স্বীকৃতি দেয়। তা সত্ত্বেও পদোন্নতির সুযোগ না দেওয়ায় মামলা করে বামপন্থী সংগঠনটি। হাইকোর্ট রায়ে জানিয়েছে, সফলভাবে কোর্স শেষ করা শিক্ষকরা পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য।
এই অবস্থায় কর্মচারী ফেডারেশনের পলিটেকনিক ব্রাঞ্চের সভাপতি বিক্রম চট্টোপাধ্যায় অন্যান্য সদস্যদের চাপের মুখে পড়েছেন। তাই শুধুমাত্র মামলাকারী নয়, সমস্ত যোগ্য শিক্ষকই যাতে পদোন্নতির সুযোগ পান, সেই আর্জি জানিয়ে দপ্তরের প্রধান সচিবকে চিঠি লিখেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘সরকারপন্থী সংগঠন হয়েও যদি দাবি আদায়ে কোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়, তাহলে সেটা দুর্ভাগ্যজনক।’ এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দপ্তরের প্রধান সচিব অনুপ আগরওয়াল এসএমএস করে বলেন, ‘ডিরেক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন’। ডিরেক্টর জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এটি দপ্তরের বিষয়। তিনি কিছু বলতে পারবেন না। সূত্রের খবর, ডিরেক্টরের অফিস থেকে পদোন্নতির সুপারিশের ফাইল দপ্তরের ল’ সেকশনে গিয়ে পড়ে রয়েছে বেশ কিছুদিন ধরেই। ফলে এবার যা করার, তা দপ্তরই করতে পারবে।