


ওয়াশিংটন: রাখঢাক করেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেলের ‘দখল’ নেওয়াই আসল লক্ষ্য। সেই তেল বিক্রয়ের অর্থও নিয়ন্ত্রণ করবেন তিনিই। এবার ট্রাম্পের পথেই এগনোর বার্তা মার্কিন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটের। এবিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে তিনি বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির নিয়ন্ত্রণ অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকবে আমেরিকার হাতে। একই ইঙ্গিত মিলেছে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিনা লিভিটের কথাতেও। তিনি বলেছেন, ভেনেজুয়েলার অশোধিত তেল বিপণনের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে আমেরিকা। তেল বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ জমা পড়বে মার্কিন ট্রেজারির অ্যাকাউন্টগুলিতে। আমেরিকা ও ভেনেজুলেয়ার মানুষের স্বার্থে সেই অর্থ ব্যয় করা হবে। এরইমধ্যে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগেজ বলেছেন, ‘জ্বালানির লোভে’ই এভাবে ভেনেজুয়েলাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি টেলিভিশনে চাঁচাছোলা ভাষায় তিনি বলেছেন, জ্বালানির লোভেই আমাদের সম্পদ দখলের চেষ্টা হচ্ছে। আর এজন্যই ঢাল হিসেবে মাদক পাচার, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ভুয়ো অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আমেরিকার পদক্ষেপের সমালোচনা করে ডেলসি বলেছেন, ভেনেজুয়েলা সবার সঙ্গেই জ্বালানি সংক্রান্ত সম্পর্ক গড়ে তুলতে রাজি। তবে নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে ওই সহযোগিতা গড়ে ওঠা দরকার।
ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য তাদের ঘোষিত লক্ষ্যেই এগচ্ছে। বুধবার মায়ামিতে রাইট বলেছেন, ‘ভেনেজুয়েলায় ফের অশোধিত তেল তোলার কাজ শুরু করা হবে। প্রথমে বিক্রি করা হবে সঞ্চিত তেল। এরপর নতুন করে তোলা জ্বালানিও অনির্দিষ্টকালের জন্য বেচব আমরাই।’ ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদনে মার্কিন সংস্থাগুলিকে নামানোর পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দপ্তর সূত্রে খবর, এজন্য ভেনেজুয়েলার উপর নিধেষাজ্ঞা আংশিক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।