


নয়াদিল্লি: ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ইস্যুতে সামনে এল আমেরিকার কড়া প্রতিক্রিয়া। নয়াদিল্লি থেকে চুক্তি সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই ‘মাদার অব অল ডিলস’ নিয়ে সুর চড়ান আমেরিকার ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তীব্র সমালোচনা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই শীর্ষকর্তা। মার্কিন সংবাদ মাধ্যমে তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে ইউরোপের তুলনায় অনেক বেশি বোঝা বইতে হচ্ছে আমেরিকাকে। ইউরোপের থেকে বেশি আত্মত্যাগ করেছে আমেরিকা। রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারতের উপর আমরা ২৫ শতাংশ কর চাপিয়েছে। ইউরোপীয়রা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।’ শুধু তাই নয়, ভারত থেকে ঘুরপথে পরিশোধিত রাশিয়ার তেল কিনে ইউরোপ পরোক্ষে যুদ্ধে আর্থিক সহযোগিতা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনাচক্রে, ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা এখনও ঝুলে। তারই মধ্যে ইউরোপের সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পাকা হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বেসেন্ট। তবে, এই ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কী প্রতিক্রিয়া দেন, সবার নজর এখন সেদিকেই।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে। ২০১৩ সালে আলোচনা থমকে গেলেও পরে ২০২২ সালে তা ফের চালু হয়। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার কথা ঘোষণা হল যৌথভাবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী মোদি এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘ভারত আজ ইতিহাসের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আনন্দদায়ক ঘটনা হল, আজ ২৭ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এফটিএ স্বাক্ষরের পথে এগোচ্ছে। নিছক বাণিজ্য চুক্তি নয়...এটি পারস্পরিক সমৃদ্ধির নয়া ব্লুপ্রিন্ট। এর ফলে উপকৃত হবে গোটা বিশ্বই। শুধু তাই নয়, কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও তৈরি হবে।’
শুধু মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিই নয়, মোবিলিটি ফ্রেমওয়ার্ক সংক্রান্ত সহমতেও পৌঁছেছে ভারত ও ইইউ। এর ফলে পেশাদারদের পারস্পরিক যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল হয়ে লাভবান হবে দু’পক্ষই। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারতের উপর বাড়তি ২৫ শতাংশ কর চাপিয়েছে আমেরিকা। আবার গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সুড় চড়ানোয় গত সপ্তাহে ইউরোপের দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য সংঘাত তীব্রতর করার হুশিয়ারি দিয়েছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘মস্তানি’র মুখে ভারত ও ইইউ— দুই শিবিরই। সেই আবহেই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এদিনের ঘোষণা বাড়তি তাৎপর্যের। আমেরিকার নাম না করে ইইউ প্রেসিডেন্ট আন্তোনিয়া কোস্তার ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য, ‘এই বাণিজ্য চুক্তি বিশ্বকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। সেটি হল, ট্যারিফ নয় ট্রেড ডিলে বেশি বিশ্বাসী ভারত ও ইউরোপ। বিশেষ করে যখন প্রোটেকশনিজম মাথা চাড়া দিচ্ছে ও কিছু দেশ ট্যারিফ বৃদ্ধি করছে।’ প্রায় একই সুরে আমেরিকাকে বিঁধেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক চ্যালেজ্ঞগুলির সবচেয়ে ভালো দাওয়াই যে সহযোগিতা, এই চুক্তিই তার প্রমাণ।’