


ওয়াশিংটন: ওভাল অফিসে বসে ফের ভারতের দিকে আঙুল তুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতিমধ্যে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য পরোক্ষভাবে ভারতের ঘাড়েই দায় চাপিয়েছেন তিনি। মস্কোকে ‘শায়েস্তা’ করার জন্যই ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হয়েছে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিনি। পাশাপাশি, আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। ওভাল অফিসে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যারল নওরোকির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে পোল্যান্ডের এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, কেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছে না আমেরিকা? প্রেসিডেন্ট পাল্টা তাঁকে বলেন, আপনি কীভাবে জানলেন কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না? চীনের পর রাশিয়ার থেকে বেশি পরিমাণ তেল আমদানি করে ভারত। সেজন্য দিল্লির উপর দ্বিতীয় ধাপে শুল্ক চাপানোয় রাশিয়ার বহু কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এর পরও বলবেন কিছু করা হয়নি? ভারত তেল কেনায় ফুলেফেঁপে উঠেছে রাশিয়ার তেল সংস্থাগুলি। ওই টাকা রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যয় হচ্ছে বলে মত ট্রাম্প প্রশাসনের। সম্প্রতি বেজিংয়ে চীনের ৮০তম বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংকে পাশাপাশি দেখা গিয়েছে। কিছুদিন আগে এসসিও সম্মেলনে গিয়ে পুতিন ও জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁদের এহেন অবস্থানকে ‘পশ্চিম বিরোধী’ শক্তি হিসেই দেখছে আমেরিকা। এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ইতিমধ্যে আমি একটি ব্যবস্থা নিয়েছি। মস্কোর বিরুদ্ধে আরও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। এদিকে, গত ২৭ আগস্ট থেকে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। সেই প্রসঙ্গে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ২৫১ পাতার নথি জমা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তারা জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের উপর আইইইপিএ (ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট) শুল্ক বসিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।