


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গাড়ি এবং তার যন্ত্রাংশের আমদানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। নিজের দেশের গাড়ি শিল্পকে রক্ষা করতেই তাদের এই সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেছে তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বাণিজ্য নীতিতে ভারতের গাড়ি ব্যবসায় বড় কোনও প্রভাব পড়বে না। এমনটাই মনে করছে অন্যতম ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ক্রিসিল।
আমেরিকা জানিয়েছে, আগামী কাল, ৩ এপ্রিল থেকে যাত্রীবাহী গাড়ি এবং হালকা পণ্যবাহী গাড়ির আমদানির ক্ষেত্রে তাদের দেশে নতুন শুল্ক প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে, গাড়ির যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে সেই নীতি কবে থেকে কার্যকর হবে, তা শীঘ্রই জানাবে তারা। ক্রিসিল দাবি করেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ভারতে যত যাত্রীবাহী গাড়ি ও বাণিজ্যিক গাড়ি তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যে যথাক্রমে ১৫ ও ৮ শতাংশ গাড়ি রপ্তানি করা হয়েছিল। যেটুকু গাড়ি রপ্তানি হয়, তার মধ্যে আমেরিকার ভাগ অত্যন্ত কম। ক্রিসিলের দাবি, যাত্রীবাহী গাড়ি মোট রপ্তানির ০.২১ শতাংশ আমেরিকায় পাড়ি দেয়। অন্যদিকে ভারতীয় পণ্যবাহী গাড়ির মোট রপ্তানির ৩ শতাংশ গিয়েছে সেদেশে। ক্রেডিট রেটিং সংস্থাটি দাবি করেছে, ভারতের যে গাড়ি বিদেশে পৌঁছয় তার বেশিরভাগ যায় মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলিতে। অন্যদিকে, ফোর্ড ও জেনারেল মোটর্সে মতো সংস্থা ভারতের মাটি থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার পর এদেশ থেকে আমেরিকায় গাড়ি রপ্তানির প্রবণতা অনেকটাই কমেছে।
তবে ক্রিসিল দাবি করেছে, ইঞ্জিনসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ রপ্তানির ক্ষেত্রে আমেরিকার বাজার তুলনামূলক এগিয়ে আছে ভারতীয় গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির কাছে। ৪০ শতাংশ পর্যন্ত যন্ত্রাংশ রপ্তানি হয় সে দেশে। যেহেতু সার্বিকভাবে যন্ত্রাংশ রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারত কিছুটা পিছিয়ে, তাই এক্ষেত্রেও আমেরিকার শুল্কনীতি খুব একটা প্রভাব ফেলবে না ভারতীয় গাড়ির বাজারে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। তাই মার্কিন শুল্ক নীতিতে দেশীয় গাড়ি বাজারের আশঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।