


নয়াদিল্লি: অপ্রতিরোধ্য। কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। শত্রুর নজর এড়িয়ে নিমেষে তছনছ করে দেবে সবকিছু। অত্যাধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমান সম্পর্কে এমনই প্রচার করত আমেরিকা। স্বয়ং ট্রাম্পও ঘোষণা করেছিলেন, বিনা বাধায় সে দেশে উড়ে বেড়াচ্ছে মার্কিন যুদ্ধবিমান। তবে এই দাবি ভুল প্রমাণ করেছে ইরান। জানা যাচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতে মার্কিন স্টেলথ এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে তেহরান। আরও একটি স্টেলথ বিমানে বড়ো ধরনের আঘাত হেনেছে।
ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, বৃহস্পতিবার তাদের এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা মার্কিন স্টেলথ যুদ্ধবিমান শনাক্ত করে তাতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। এবং মাটিতে ভেঙে পড়ে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। কিছুক্ষণের মধ্যে ইরানের বন্দর আব্বাসের আকাশে আরও একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে দাবি করে তেহরান। ইরান সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ জানান, ‘বিশ্বে এই প্রথম এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে আঘাত হানা হয়েছে। এই আঘাত মার্কিন সামরিক শক্তির প্রতীকী পতনের ইঙ্গিত বহন করে।’ যদিও আমেরিকির দাবি, তাদের একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাত্র। সেটি ভূপাতিত হয়নি। বিমানটি নিরাপদে একটি ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করেছে। পাইলটও নিরাপদে রয়েছেন। মার্কিন দাবির পালটা যুদ্ধবিমান ধ্বংসের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে ইরান। ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই না হলেও বিষয়টা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি স্টেলথ যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
আমেরিকা বরাবরই দাবি করে এসেছে, এফ-৩৫ বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত স্টেলথ যুদ্ধবিমানগুলির মধ্যে একটি। এটি রাডারে সহজে ধরা পড়ে না। এই যুদ্ধবিমানকে ‘অদৃশ্য’ বলেও প্রচার করত আমেরিকা। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, স্টেলথ আদৌ ‘অদৃশ্য’ নয়। অ্যাঙ্গুলার বা তিনকোণা গঠনের জন্য এটি রাডার এড়িয়ে যেতে পারে সহজে। তবে শুধুমাত্র রাডার এড়িয়ে চললেই সম্পূর্ণ নিরাপদ, তা নয়। আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইনফ্রারেড ট্র্যাকিং ব্যবস্থাও রয়েছে। যা বিমানের ইঞ্জিনের তাপকে শনাক্ত করতে পারে। যদিও স্টেলথ বিমানগুলিতে তাপ কমানোর বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। তাতেও সম্পূর্ণ অদৃশ্য হওয়া অসম্ভব বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান এমন কিছু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যা ইনফ্রারেড সেন্সরের মাধ্যমে লক্ষ্যভেদ করতে পারে। আর তাতেই স্টেলথ প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা সামনে এসেছে। আমেরিকার দাবি মেনে বিশ্বের অন্তত ১৫টি দেশ এফ-৩৫ কিনেছে। ভারতকেও এই বিমান কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাতে আগ্রহ দেখাননি প্রধানমন্ত্রী মোদি। এহেন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিমান, যার মূল্য আকাশছোঁয়া, তা ভূপতিত করা নেহাতই সাধারণ ঘটনা নয়।