


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০০১ সালে শিলিগুড়ি, ২০০৭ সালে তেহট্টের পর ফের রাজ্যে ধরা পড়ল নিপা ভাইরাস। ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ মৃত্যুহারের এই বিপজ্জনক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে দুই নার্স। দু’জনে বারাসতে আলাদা দু’টি বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকেন। প্রথমজন পুরুষ নার্স, বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে এবং অপর মহিলা নার্সের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানে। আক্রান্ত মহিলা নার্স ১৫ ও ১৭ ডিসেম্বর নদীয়ায় পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তারপর থেকে গিয়েছিলেন শান্তিনিকেতনসহ একাধিক জায়গায়। অসুস্থ হয়ে দক্ষিণবঙ্গের একটি মেডিকেল কলেজে ভরতি হন। শেষে বারাসতে নিজের হাসপাতালে। পুরুষ নার্স তরুণটি গত ২০ ও ২১ ডিসেম্বর মেয়েটির সঙ্গে হাসপাতালে নাইট ডিউটিতে ছিলেন। ২৪-২৫ বছর বয়সের ওই দু’জনের অবস্থা এখন অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ফুসফুস ও মস্তিষ্কে প্রবল সংক্রমণের (এনকেফেলোপ্যাথি) কারণে দু’জনকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। কাদের সংস্পর্শে তাঁরা এসেছিলেন, তা জানতে শুরু হয়েছে কনট্যাক্ট ট্রেসিং।
১১ ডিসেম্বর এমআরআই রিপোর্ট দেখে সন্দেহ হওয়ার কল্যাণী এইমস-এর সংক্রামক রোগ বিভাগের প্রধান ডাঃ সায়ন্তন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ওই দু’জনের শরীরের চার ধরনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তারপর নিপা কিটে পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্ট পজিটিভ আসে। বিষয়টির স্পর্শকাতর, তাই পুনরায় যাচাই করার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতেও। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আক্রান্তরা কাদের সংস্পর্শে এসেছেন তারও খোঁজ নিচ্ছে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। সোমবার সন্ধ্যায় মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ও স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম সাংবাদিক সম্মেলন করে দু’জনের নিপা সংক্রমণের খবর স্বীকার করেন। রাজ্য এই বিষয়ে তিনটি হেল্প লাইন নম্বর (০৩৩২৩৩৩০১৮০, ৯৮৭৪৭০৮৮৫৮ ও ৯৮৩৬০৪৬২১২) চালু করেছে।