


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মঙ্গলবার কালীঘাট থেকেই প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত হয়। তারই পরই উচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছিলেন বেহালা পূর্ব ও বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রের দুই তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী। সেই উচ্ছ্বাসকে সীমিত পর্যায়ে রাখলেন পূর্বের প্রার্থী শুভাশিস চক্রবর্তী ও পশ্চিমের রত্না চট্টোপাধ্যায়। বরং বুধবার থেকেই প্রচারে নেমে পরবর্তী পাঁচবছরের পরিকল্পনা নিয়ে মানুষের দরবারে হাজির দুই রাজনীতিবিদ। গণপরিবহণের সমস্যা, রাস্তার সম্প্রসারণ, নিকাশি ব্যবস্থা উন্নতি—বেহালায় নাগরিক পরিষেবার এই ইস্যুগুলিকে লক্ষ্য করেই ব্যালট যুদ্ধে জয়ের পথ খুঁজছেন শাসক দলের প্রার্থীরা। একযোগে তাঁদের দাবি, ‘সব কেন্দ্রেই প্রার্থীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই জয় নিয়ে সংশয় নেই। বকেয়া কাজ সম্পূর্ণ করে মানুষের পাশে থাকাই লক্ষ্য।’
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টালিগঞ্জের করুণাময়ী থেকে নির্বাচনি প্রচারে নামেন রাজ্যসভার প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা বেহালা পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী শুভাশিস চক্রবর্তী। করুণাময়ী থেকে বিরাট মিছিল করেন তিনি। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ। তাঁদের দাবি-দাওয়ার কথা শোনেন প্রার্থী। ভোট চাওয়ার পাশাপাশি নিজের একাধিক পরিকল্পনাও জানিয়ে দেন। তিনি বলেন, হরিদেবপুর থেকে ঠাকুরপুকুর পোড়া অশ্বত্থতলা পর্যন্ত কোনো গণপরিবহণ নেই। এই দুই পথে যাতায়াতের জন্য ঠাকুরপুকুর ৩এ বাসস্ট্যান্ড ঘুরে পৌঁছাতে হয়। ফলে সাধারণ মানুষের সময় ও খরচ হয় অনেকটাই। সেই সমস্যা লাঘবে নতুন অটো রুট চালুর পরিকল্পনা করছেন তৃণমূল প্রার্থী। শুভাশিসের সেই ভাবনা আর বাস্তবায়নের মাঝে দাঁড়িয়ে রয়েছে বেহালা পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দাদের ‘রায়’। সূত্রের খবর, আজ বৃহস্পতিবার বেহালা পূর্ব কেন্দ্রে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন প্রার্থী। তারপরই বাড়ি বাড়ি প্রচার শুরু করবেন তিনি।
পিছিয়ে নেই বেহালা পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে গতবারের বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়। ডায়মন্ডহারবার রোড পেরিয়ে এবার তিনি বেহালা পশ্চিমের জোড়াফুল প্রার্থী। পার্থর ‘ছায়া’ সরিয়ে এবার দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে যোদ্ধা রত্না। সোমবার থেকেই নিজের ১৩১ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই প্রচারে নামেন তিনি। মঙ্গলবারও সকাল থেকে প্রচারে বেরিয়ে পড়লেন বিদায়ী বিধায়ক। স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে অভিনন্দন বার্তা পান তিনি। বিশেষত, সেই ভিড়ে মহিলা মুখ ছিল দেখার মতো। তাঁদের মধ্যেই অনেকেই নিজেদের সমস্যার কথা জানান। উল্লেখ্য, বেহালা পশ্চিম বিধানসভা আসনের বিজি প্রেস, পর্ণশ্রীর এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, এখনো জল জমার সমস্যা রয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার অবস্থাও বেহাল। প্রার্থীর বক্তব্য, আগামী পাঁচবছরে বেশকিছু পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যে নাগরিক সমস্যা মেটানোই প্রধান লক্ষ্য। মানুষ আশীর্বাদ করলে তাঁদের কাজ করতে আমি দায়বদ্ধ।