


ওয়াশিংটন: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের মধ্যেই ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের প্রধান তিন পরমাণু কেন্দ্র—ফোরদো, নাতানজ ও এসফাহানে হামলা চালায় মার্কিন বোমারু বিমান। মূল লক্ষ্য—পাহাড়ের আড়ালে মাটির অনেকটা নীচে অবস্থিত ফোরদো পরমাণু কেন্দ্র। সেখানে ছ’টি বিমান থেকে ১২টি ‘বাঙ্কার বাস্টার’ ফেলে মার্কিন বায়ুসেনা। এই হামলার পরেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমার নাম। এবার ভারতের উপরেও কার্যত সেই ধরনের বোমা ফেলতে চলেছে আমেরিকা! চমকে উঠবেন না। আক্ষরিক অর্থে নয়। আমেরিকার এই বোমা আসলে ‘ইকোনমিক বাঙ্কার ব্লাস্টার’। কারণ যে বিল আসতে চলেছে, তা অর্থনৈতিক বোমার থেকে কম কিছু নয়। নিষেধাজ্ঞার পরেও ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা জারি রাখে, সেক্ষেত্রে নয়াদিল্লির উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপাবে ট্রাম্প সরকার। জানা গিয়েছে, ইজরায়েল-ইরান সঙ্ঘাতে সরাসরি না জড়ালেও তেহরানের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে রাশিয়া। পাশাপাশি, ইউক্রেনের উপর আক্রমণও জারি রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে পুতিন প্রশাসনকে আরও কোণঠাসা করতে তৎপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর এক্ষেত্রে নীতিগত দূরত্ব ভুলে একজোট হয়েছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট শিবিরের দুই সেনেটর। ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার ক্রমাগত হামলার জবাবে স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট, ২০২৫ বিল আনেন লিন্ডসে গ্রাহাম (রিপাবলিকান) ও রিচার্ড ব্লুমেন্থাল (ডেমোক্র্যাট)। কী বলা হয়েছে এই বিলে? রাশিয়া থেকে যে সমস্ত দেশ তেল, গ্যাস পেট্রোকেমিক্যাল বা ইউরেনিয়াম কিনবে, তাদের উপর আমেরিকা থেকে আমদানি করা সমস্ত কিছুর উপর আকাশছোঁয়া ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিলের প্রাথমিক লক্ষ্য রপ্তানি খাতে রাশিয়ার আয়কে ধাক্কা দেওয়া। এই প্রস্তাবটি মার্কিন সংসদে পাস হলে রাশিয়ার পাশাপাশি চাপে পড়বে ভারত ও চীন। কারণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এই দুই দেশ রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করে চলেছে। গত মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, ভারত প্রতিদিন রাশিয়া থেকে ১৯ লক্ষ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল আমদানি করেছে। নজর করার মতো বিষয় হল, জুন মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে রাশিয়ার থেকে সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে বেশি পরিমাণ অশোধিত তেল আমদানি করা হয়েছে। ১৯ লক্ষ ৬০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে অঙ্কটা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেলে। অন্যদিকে, ভারত ও চীন একসঙ্গে তাদের প্রায় ৭০ শতাংশ তেল রাশিয়া থেকে আমদানি করে।
রাশিয়ার পাশাপাশি আমেরিকা, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে তেল আমদানি করে ভারত। শুধুমাত্র এই কারণেই ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলেও কিছুটা নিশ্চিন্তেই ছিল নয়াদিল্লি। কিন্তু এই আইন মার্কিন সংসদে পাস হলে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল সরবরাহ বিপদে পড়বে। পাশাপাশি চাপবে ৫০০ শতাংশ শুল্কের খাঁড়া। সেক্ষত্রে প্রভাব পড়তে পারে ভারতের অর্থনীতির উপরে। যা চিন্তা বাড়াচ্ছে নয়াদিল্লির।