


ঢাকা: আজ, বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলা মামলার রায় ঘোষণা করতে পারে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবিউনাল (আইসিটি)। তার প্রতিবাদে দিন কয়েক আগেই বৃহস্পতিবার ‘ঢাকা লকডাউন’-এর ডাক দিয়েছে আওয়ামি লিগ। হাসিনা নিজেই দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে জানিয়েছেন, যে যেখানে আছেন তাঁদের মাঠে নামতে হবে। আওয়ামি লিগ যাতে কোনওমতেই এই কর্মসূচি পালন করতে না পারে, তার জন্য বিরাট নিরাপত্তা বাহিনী নামাতে চলেছে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। কয়েক হাজার পুলিশ ও সেনাকর্মীকে বৃহস্পতিবার আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে জামাত ও বিএনপি সহ একাধিক রাজনৈতিক দলও। ফলে এই কর্মসূচিকে ঘিরে ঢাকার রাস্তায় ব্যাপক গণ্ডগোলের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বুধবার থেকেই ঢাকার পরিস্থিতি থমথমে। অশান্তির ভয়ে এদিন বহু মানুষই বাইরে বেরোয়নি। তার মধ্যেই গত কয়েকদিন ধরে ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে হাতবোমা (স্থানীয় ভাষায় ককটেল) বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে অপরাধ ট্রাইবিউনালের সামনেও ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এছাড়া সরকারি অফিস, বাসে আগুনও লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, আওয়ামি লিগের মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরাই এই সব হামলার সঙ্গে জড়িত। যদিও হাসিনার দল জানিয়েছে, তারা কোনও নাশকতার সঙ্গে যুক্ত নয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে ধবর, ১৪২টি এলাকায় ৭ হাজারের বেশি পুলিশকর্মীকে নিয়ে ইতিমধ্যেই মহড়া হয়েছে। ইউনুসের বাসভবনের সামনেও মহড়া হয়েছে। ঢাকা পুলিশের মুখপাত্র মহম্মদ তালেবুর রহমান অবশ্য জানিয়েছেন, এটি রুটিন মহড়া। বাহিনীকে যে কোনও পরিস্থিতিতে তৈরি থাকার জন্য এই মহড়ার আয়োজন করা হয়। আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর একাংশকে সম্প্রতি ক্যান্টনমেন্টে ফেরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। ইউনুস সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মহম্মদ জাহাঙ্গির আলম চৌধুরি জানিয়েছেন, নাশকতা ঠেকাতে আপাতত রাস্তার পাশে জ্বালানি তেল বিক্রি কিছুদিনের জন্য বন্ধ থাকবে।
এর মধ্যেই পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, যদি আওয়ামি লিগের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অবাধ, অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচনের আয়োজন করা হয়, তাহলেই তিনি দেশে ফিরবেন। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ফের একবার অভিযোগ করেছেন, ইউনুস সরকার জঙ্গিদের হাত শক্ত করার ফলে দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমার বাংলাদেশে ফেরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল অন্তর্ভূক্তিমূলক গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। অন্তর্বর্তী সরকারকে অবশ্যই আওয়ামি লিগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।’ এই সাক্ষাৎকার প্রকাশের পরই ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারকে তলব করেছে বাংলাদেশ।