


সংবাদদাতা, কান্দি: গ্রামীণ রাস্তার উপর দিয়ে শতাধিক ডাম্পার, ট্রাক চলছে। তার ফলে রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। ঘটনাটি বড়ঞা ব্লকের বৈদ্যনাথপুর ও ভরতপুর-১ ব্লকের গড্ডাগ্রামের। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা মঙ্গলবার সকালে ওই গ্রামীণ রাস্তার দু’টি জায়গা কেটে দেন। রাস্তা কাটা নিয়ে ঠিকাদারের লোকজনের সঙ্গে বাসিন্দাদের হাতাহাতিতে জড়াতে দেখা গিয়েছে। ঘটনায় বড়ঞা থানার পুলিশ ঠিকাদার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে আটক করেছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ওই এলাকায় ১১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। ফরাক্কা-হলদিয়া বাদশাহি সড়ক থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পূর্বে জাতীয় সড়কটি তৈরি হচ্ছে। তাই জাতীয় সড়কের কাঁচামাল নিয়ে যেতে বৈদ্যনাথপুর থেকে গড্ডাগ্রাম পর্যন্ত গ্রামীণ সড়কটি ব্যবহার করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, কাঁচামাল হিসেবে পাওয়ার স্টেশনের কয়লার ছাই প্রয়োজন। সেইমতো গত কয়েকদিন ধরে ওই গ্রামীণ সড়কের উপর দিয়ে শতাধিক ডাম্পার ও ট্রাকে করে কাঁচামাল নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বাসিন্দাদের অভিযোগ, অসংখ্য গাড়ি চলাচলের জেরে গ্রামীণ রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। পাশাপাশি, রাস্তার পাশের জমির ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গড্ডাগ্রামের চাষি কিবরিয়া শেখ বলেন, গাড়িগুলি যাতায়াত করায় ধুলো, ছাইয়ের জেরে আলুর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় আট কাঠা জমির আলু একেবারে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অপর চাষি ফুলচাঁদ শেখ বলেন, রাস্তায় ধুলোর কারণে বাড়ি থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। রাস্তা ভেঙে চুরমার হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল শেখ বলেন, ডাম্পার ও ট্রাকের দাপটে ছাত্রছাত্রীরা পর্যন্ত স্কুলে যেতে পারছে না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার স্থানীয়দের সঙ্গে ডাম্পার চালকদের ঝামেলা হয়। এরপর মঙ্গলবার ভোরের দিকে ওই গ্রামীণ রাস্তার দুই জায়গা কেটে দেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দা ও চাষিরা। ফলে এদিন জাতীয় সড়ক নির্মাণের জন্য গাড়ি চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এদিন সকাল থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ঠিকাদারের লোকজনের কয়েকবার ঝামেলা হয়। এরপর দুপুরের দিকে ঠিকাদার ঘনিষ্ঠরা একজন চিত্র সাংবাদিক সহ কয়েকজন বাসিন্দাকে মারধর করে বলে অভিযোগ। পরে বড়ঞা থানার পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বড়ঞা থানার পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রয়েছে। কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ঝামেলার সময় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এলাকা পরিদর্শনে আসেন। তিনি বলেন, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেটা দেখা হবে। এবিষয়ে কান্দি মহকুমা শাসক প্রদীপ্ত বিশ্বাস বলেন, গোটা বিষয়টির খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি পুলিশকেও জানান হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সামসুজ্জোহা বিশ্বাস বলেন, আমাদের কাছে গ্রামীণ সড়কের উপর দিয়ে ভারী যান নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে, খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।