


মস্কো: জেগে উঠল রাশিয়ার কামচাটকার ক্রাশেনিন্নিকোভ আগ্নেয়গিরি। দীর্ঘ ৬০০ বছর পর। গত বুধবার ভোরে ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশ। রাশিয়ার পূর্বভাগে উপকূলে প্রবল কাঁপুনি অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৮.৮। এর জেরে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলায়। তার জেরেই আচমকা এত বছর পর ক্রাশেনিন্নিকোভ আগ্নেয়গিরি জেগে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে, রবিবার ফের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে রাশিয়ায়। কুরিল দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৭। ভূকম্পের উৎসস্থল ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। সেদেশের জরুরি পরিষেবা মন্ত্রক জানিয়েছে, রাশিয়ার তিনটি উপকূলে সুনামি হতে পারে। ঢেউয়ের উচ্চতা অবশ্য খুব বেশি হবে না। উপকূলবর্তী এলাকায় জনবসতি খালি করার কাজ শুরু হয়েছে বলে খবর। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বুধবারের আফটার শকের জেরেই রবিবার ফের কম্পন হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, কয়েক দিনের মধ্যে আবারও ভূকম্প অনুভূত হতে পারে রাশিয়ায়।
ভূতত্ত্ববিদ ও গবেষক ওলগা গিরিনা বলেছেন, ‘ক্রাশেনিন্নিকোভ আগ্নেয়গিরিতে এটাই প্রথম ইতিহাসে নথিভুক্ত প্রামাণ্য অগ্ন্যুৎপাত।’ তাঁর মতে, শেষবার সম্ভবত ১৪৬৩ সালে আগ্নেয়গিরি সক্রিয় হয়েছিল। তারপর থেকে আর কোনও অগ্ন্যুৎপাতের খবর পাওয়া যায়নি। জানা গিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে প্রায় ছ’কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে ছাই। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই সংক্রান্ত একাধিক ছবি-ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। জায়গাটি জনবসতিপূর্ণ এলাকা না হওয়ায় অগ্ন্যুৎপাতের ফলে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। তবে আগ্নেয়গিরি ফের সক্রিয় হওয়ায় বিমান চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে। জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। আকাশপথে যাতায়াতের সময় সাবধানতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।