


নয়াদিল্লি: ‘অপারেশন সিন্দুর বন্ধ হয়নি। শুধুমাত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। পাকিস্তান যেন একথা মনে রাখে।’ পহেলগাঁও হামলার প্রেক্ষিতে এভাবেই ইসলামাবাদকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যদিও পহেলগাঁও হামলার স্মৃতি ফিকে হওয়ার আগেই আত্মঘাতী বিস্ফোরণের শিকার দিল্লি। প্রাথমিক তদন্তে ইতিমধ্যেই পাক জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদের জড়িত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। তারই মধ্যে এবার পাকিস্তানের জড়িত থাকা নিয়ে এল স্পষ্ট স্বীকারোক্তি। এবং এই স্বীকারোক্তি এল পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের সদ্য ক্ষমতাচ্যুত ‘প্রধানমন্ত্রী’ চৌধুরী আনোয়ারুল হকের তরফে। একটি ভিডিওতে হককে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘আগেও বলেছিলাম, বালুচিস্তানকে রক্তাক্ত করলে আমরাও লালকেল্লা থেকে কাশ্মীরের অরণ্য— সর্বত্র আঘাত হানব। আল্লার কৃপায় আমরা তা করে দেখিয়েছি। ওরা এখনও লাশ গুনে উঠতে পারেনি।’ স্পষ্টতই কাশ্মীরের অরণ্য বলতে পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় হামলা ও লালকেল্লা বলতে দিল্লিতে বিস্ফোরণের কথা বুঝিয়েছেন হক। দিল্লি বিস্ফোরণের আত্মঘাতী জঙ্গি উমর নবি যে জয়েশ হ্যান্ডলারদের অঙ্গুলিহেলনে হামলা চালিয়েছে, গোয়েন্দাদের কাছে তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। এবার পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রভাবশালী নেতাও সর্বসমক্ষে স্বীকার করলেন, ভারতের রাজধানীতে হামলার নেপথ্যেও রয়েছে পাকিস্তান। বিরোধী শিবিরের প্রশ্ন, পাকিস্তানি নেতার এই স্বীকারোক্তির পর কেন্দ্র কি কোনও কঠোর পদক্ষেপ করবে? প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মতো অপারেশন সিন্দুর ফের চালু হবে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। যদিও এবিষয়ে সরকারের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটাভুটিতে হারার পর গত সোমবার পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের আইনসভায় ভাষণ দেন চৌধুরী আনোয়ারুল হক। দাবি করেন, কাশ্মীরের অরণ্য (বৈসরণ উপত্যকা) থেকে ভারতের রাজধানী (লালকেল্লা বিস্ফোরণ), সর্বত্রই হামলার নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তান। আমাদের ‘শাহিন’রা তা করে দেখিয়েছে। হকের সেই ভাষণের ভিডিওই প্রকাশ্যে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তা এখন ভাইরাল। ঘটনাচক্রে, গত এপ্রিল মাসেও একই ধরনের ভারত বিরোধী মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছিল হককে। সেবার তাঁর হুঁশিয়ারি ছিল, ‘তোমরা বালুচিস্তানে পাকিস্তানিদের রক্ত নিয়ে হোলি খেললে তার মূল্য তোমাদের দিল্লি থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত চোকাতে হবে।’