


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোনও স্কুলে ধুলো জমছে কম্পিউটারে। আবার কোথাও স্মার্ট ক্লাসরুমের জন্য দেওয়া বিশেষ হার্ডওয়্যার বাক্সবন্দি হয়েই পড়ে রয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্মার্ট বা ডিজিটাল ক্লাসরুমের জন্য দেওয়া সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যার আখেরে কোনও কাজে লাগানো হচ্ছে না। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন স্কুল থেকে এমন অভিযোগ পাচ্ছিল বিকাশ ভবন। তাই এবার ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) ভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার হালহকিকত বুঝতে রাজ্যজুড়ে সমীক্ষা ও নজরদারি চালু করছে শিক্ষাদপ্তর। এর জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ সফটওয়্যারও।
বাংলার শিক্ষা পোর্টালেই সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যারটির ইউআরএল (https://wbictmonitoring.in/) দেওয়া রয়েছে। আইসিটি ক্লাসরুম বা ল্যাবরেটরি সংক্রান্ত ক্রিয়াকলাপ স্কুলগুলি প্রতিদিন এখানে শেয়ার করবে। কোনও সাবজেক্ট টিচার ক্লাস নিলেন, কতক্ষণের ক্লাস হল, কত ছাত্রছাত্রী অংশ নিল, সবই উল্লেখ করতে হবে সেখানে। ডিআই’দের বলা হয়েছে, প্রত্যেক জেলার জন্য পৃথক একটি লগইন আইডি দেওয়া হবে। সেখান থেকে তাঁরাও নজরদারি চালাতে পারবেন সেই সব ক্লাসে। নজরদারি আরও নিবিড়ভাবে চালানোর জন্য স্রেফ জেলা স্তরে নয়, মহকুমা এবং সার্কেল স্তরেও পৃথক লগইন আইডি দেওয়া হবে। মহকুমা স্তরে একজন এডিআই এবং সার্কেল স্তরে একজন এসআই এগুলির নজরদারি চালাতে পারবেন। প্রতিটি স্তরেই নজরদারির পারফরম্যান্সও যাচাই করা হবে বিকাশ ভবন থেকে। কিছু স্কুলের তরফে বলা হচ্ছে, অনেক সময়ই সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যারে সমস্যা হলে সেগুলি ঠিক করাতে গিয়ে বেগ পেতে হয়। সে কারণেও কিছু স্কুলে এগুলি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে।
রাজ্যে আইসিটি ইনস্ট্রাক্টরও নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা কীভাবে কাজ করছেন, নজরদারি চলবে তাতেও। নিয়মিত কম্পিউটার ক্লাস নেওয়া ছাড়া তাঁরা আইসিটি ল্যাবরেটরি ব্যবহার করে স্মার্ট ক্লাসেও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের সহায়তা করে থাকেন। এছাড়া অনলাইনে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের তথ্যাদি আপলোডেও তাঁদের ভূমিকা থাকে। যদিও, ভাতা নিয়ে এই শিক্ষকদের মধ্যে একটি অসন্তোষ রয়েই গিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, কাজের চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাতা দেওয়া হোক তাঁদের।