


স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: পুলিশি নজর এড়িয়ে প্রতারণার টাকা রাখতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নেওয়াটা অজানা নয়। কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ভাড়া? এটাই নয়া ‘ট্রেন্ড’। সাধারণ মানুষকে আকর্ষণীয় মেসেজ, ছবি বা হ্যাকিং সফটওয়্যার পাঠাতে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ভাড়া করছে প্রতারকরা। টার্গেট—তরুণ প্রজন্ম।
কেউ প্রয়োজনে আবার কেউ শখে দু’টি আলাদা সিম থেকে দু’টি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট চালু রাখেন। তাঁদের ‘দ্বিতীয়’ হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টই টার্গেট প্রতারকদের। তার কিউ-আর কোড শেয়ার করার জন্য টাকার প্রলোভন দেখাচ্ছে জালিয়াতরা। তার মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন বিজ্ঞাপন ও তা থেকে আয়ের একটা অংশ কমিশন হিসেবে দেওয়াও হচ্ছে ‘তরুণ টার্গেট’দের। অঙ্কটা ২ থেকে ১০ শতাংশ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি রিপোর্ট বলছে, ইদানীং ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম পোর্টালে আসা একাধিক সাইবার অপরাধের তদন্তে নেমে এই তথ্যই পাচ্ছেন গোয়েন্দারা। সেখানে আদতে কে প্রতারিতকে মেসেজ পাঠিয়েছে, সেই তল খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে তদন্তকারীদের পক্ষে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ১০০টি অ্যাকাউন্ট ফিশিং বা হ্যাকিং মামলার ক্ষেত্রে ৪৫-৫৫টি কেসেই এমনই ভাড়ার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হাতে আসছে পুলিশের। একে তদন্তকারীরা বলছেন—‘মিউল হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট’। অজান্তেই তা তরুণ প্রজন্মকে সাইবার অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করে দিচ্ছে। তার জেরে অপরাধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না হলেও প্রতারণার ভাগ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারির মুখে পড়ছেন হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের আসল মালিক। পার পেয়ে যাচ্ছে ‘ভাড়াটেরা’।
কীভাবে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট? ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম পেজ স্ক্রল করলেই নজরে আসে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন। এর মধ্যেই ঘাপটি মেরে রয়েছে প্রতারকরা। তারা ‘মেটা অ্যাডভার্টাইজমেন্ট’ দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে উল্লেখ থাকছে আয়ের উৎসের। টোপ গিলেই ক্লিক করছে তরুণ প্রজন্ম। স্বয়ংক্রিয়ভাবে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে ‘রি-ডিরেক্ট’ হয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট পেজ। গ্রাহকের সেই অ্যাকাউন্টে লগ-ইনের জন্য চাওয়া হচ্ছে আইডি বা কিউ-আর কোড। এরপরেই সেই অ্যাকাউন্টের কন্ট্রোল প্রতারকদের হাতে। মাসের শেষে হোয়াটসঅ্যাপ পেমেন্টের মাধ্যমে গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আসছে টাকাও। ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের তরফে এই সমস্ত মিউল হোয়াটসঅ্যাপকে চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।