


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অ্যালোপ্যাথির পরই পৃথিবীতে যে চিকিৎসা পদ্ধতির উপর সবচেয়ে বেশি মানুষের ভরসা, তা হল হোমিওপ্যাথি। তবে মডার্ন মেডিসিনের মতো এটি রোগের চিকিৎসা করে না, করে রোগীর চিকিৎসা। শুধু তাই নয়, একাধিক সমস্যায় ভুগলেও হোমিওপ্যাথিতে একাধিক নয়, একটি অনন্য ওষুধ দিয়েই চিকিৎসার কথা বলা হয়। তাই এই প্যাথির কার্যকারিতা দাঁড়িয়ে আছে সঠিক ওষুধ নির্বাচনের উপর। যে চিকিৎসকের ওষুধ নির্বাচন যত সঠিক, তাঁর রোগীর সমস্যার সুরাহাও তত ভালো হয়।
সূত্রের খবর, এই প্রথম হোমিওপ্যাথিক ওষুধ নির্বাচনে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে (এআই) চিকিৎসকের সাহায্যকারী হিসেবে কতটা কাজে লাগানো সম্ভব, তা নিয়ে গবেষণা শুরু হচ্ছে বাংলায়। ব্যবহার করা হবে নিউরাল ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল। সোদপুরের এক হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের ইনডোর ও আউটডোরে শুরু হচ্ছে এই গবেষণা। হোমিওপ্যাথির শীর্ষ কেন্দ্রীয় গবেষণা সংস্থা সেন্ট্রাল কাউন্সিল অব রিসার্চ ইন হোমিওপ্যাথির (সিসিআরএইচ) ছাত্র-গবেষণা বৃত্তি প্রকল্পের অধীনে এই গবেষণার অনুমোদন মিলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল রেজিস্ট্রিতেও নথিভুক্ত করা হয়েছে বিষয়বস্তু। বিশেষজ্ঞরা আশাবাদী, এই গবেষণা সফল হলে হোমিওপ্যাথির ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে প্রযুক্তিগত আধুনিকতার এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। ভবিষ্যতে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা আরও বৈজ্ঞানিক ও সময়োপযোগী হয়ে উঠবে। রোগীর উপসর্গ বিশ্লেষণ সহ বিভিন্ন কাজ, রুব্রিক নির্বাচন ও সংশোধনের কাজ অনেক দ্রুত, নির্ভুল এবং কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এআই’র সাহায্য নিয়ে করা যাবে এই রেপার্টরি পদ্ধতি ও খুঁজে পাওয়া যাবে প্রয়োজনীয় ওষুধটি।
গবেষণার দায়িত্বে রয়েছেন কলেজের বিএইচএমএস-এর অন্তিম বর্ষের ডাক্তারি ছাত্র অভিদীপ্ত হাজরার নেতৃত্বাধীন একটি গবেষক দল। গাইড হিসেবে থাকছেন শিক্ষক চিকিৎসক প্রফেসর ডাঃ দেবর্ষি দাষ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই গবেষণায় ব্যবহৃত হবে ভোপালের প্রখ্যাত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডাঃ নিশান্ত নামবিসন-এর তৈরি বিশেষ এআই মডেল।
গবেষকদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে হোমিওপ্যাথিতে দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হস্তচালিত রেপার্টরি সফ্টওয়্যার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কমবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে রোগীর উপসর্গ বিশ্লেষণ, রুব্রিক নির্বাচন ও সংশোধনের কাজ অনেক দ্রুত, নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। অভিদীপ্ত বলেন, ‘আমরা আশাবাদী যে এআইর সাহায্য নিয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে প্রয়োজনীয় ওষুধটি।’