


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আকাশজুড়ে বছরের শেষ সুপারমুন। শুধু সুপারমুন নয়। এটিকে বলা হচ্ছে, কোল্ড সুপারমুন। কালো আকাশের কুয়াশা ভেদ করে সাদা রুপোর থালার মতো চাঁদখানা বেরিয়ে আসছে। তবে এ কিন্তু যে সে পূর্ণিমা নয়। একে শহরের শেষ পূর্ণিমা, তার উপর শীতকালীন পূর্ণিমা। সব মিলিয়ে এই চন্দ্রদর্শনকে নিয়ে মহাকাশপ্রেমীদের উত্সাহের শেষ নেই। শুধু মাহাকাশপ্রেমীরা নন, বৃহস্পতিবার পথচলতি মানুষজনেরও চোখ আটকেছে ওই বিশালাকার চাঁদে। কারণ, এই চাঁদ সাধারণ দিনের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল ও বিশালাকার। ফলত, চোখ এড়িয়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই এই চাঁদ রাজ্যের আকাশে বিদ্যমান। আজ, শুক্রবারও শহরের আকাশে তা দেখা যাবে। বালিগঞ্জের বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়াম (বিআইটিএম) কোল্ড সুপারমুন দেখার বিশেষ ব্যবস্থা করেছে। শুক্র ও শনিবার বিআইটিএমে বিশেষ কর্মশালার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিকেল ৫টা থেকে টেলিস্কোপে চাঁদ দেখানোরও ব্যবস্থা রেখেছে তারা। কিন্তু কেন এই চাঁদ নিয়ে এত মাতামাতি? কেনই-বা এই চাঁদের নাম দেওয়া হয়েছে কোল্ড সুপারমুন? বিআইটিএমের আধিকারিক তরুণ দাস বলছিলেন, ‘চাঁদ এই সময়টা পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসে। এটাকে বলা হয় পেরিজি। সাধারণ পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। কিন্তু এই সময় চাঁদকে ১০ শতাংশ বড়ো দেখাবে। তার সঙ্গে অন্যান্য দিনের তুলনায় উজ্জ্বল দেখাবে। কারণ, চাঁদ ৩ লক্ষ ৫৭ হাজার কিলোমিটার কাছে থাকবে। অর্থাত্ বেশ খানিকটা সামনে চলে আসবে। তাই এটা সুপারমুন।’ কিন্তু কোল্ড মুন নামটি কেন দেওয়া হল? তরুণবাবু বলছিলেন, ‘২২ ডিসেম্বর সবচেয়ে ছোটো দিন ও ছোটো রাত। এদিকে উত্তর গোলার্ধে এখন শীতকাল চলছে। এখন দক্ষিণায়নের সময়। সেই কারণেই এখন ঠান্ডা। তাই মনে হয়, চাঁদ নীচে থেকে ক্রমশ ঠান্ডার দিকে চলে যাচ্ছে। তাই আমরা এটাকে কোল্ড মুন বলি।’