


কটক: ফের বেলাইন ট্রেন। কটকে দুর্ঘটনার কবলে বেঙ্গালুরু-কামাখ্যা এক্সপ্রেস। রবিবার সকালে নিরগুন্ডি স্টেশনের কাছে লাইনচ্যুত হয় ট্রেনটির ১১টি এসি বগি। তাতে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের এক বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। নাম শুভঙ্কর রায় (২২)। এছাড়া, কমপক্ষে ৮ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইস্ট কোস্ট রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক অশোক কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, এসএমভিটি বেঙ্গালুরু-কামাখ্যা এসি এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। ট্রেনটি বেঙ্গালুরু থেকে থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। গন্তব্য ছিল অসমের গুয়াহাটির কামাখ্যা স্টেশন। কিন্তু, ওড়িশার কটকের মানগুলির নিরগুন্ডির কাছে সকাল ১১টা ৫৪ মিনিটে ট্রেনটির ১১টি কামরা বেলাইন হয়ে যায়। রাত পর্যন্ত পাওয়া খবর, ৮ জন জখম হয়েছেন। ঘটনাস্থলে একটি বিকল্প ট্রেনও পাঠানো হয়েছে। উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সেখানে গিয়েছেন। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও ওড়িশার দমকল বিভাগের সদস্যরা উদ্ধার কাজে সাহায্য করছেন। জেলা শাসক দত্তাত্রেয় বাসুদেব সিন্ধে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু, কী কারণে এই দুর্ঘটনা তা স্পষ্ট নয়। রেলের তরফেও কোনও উচ্চবাচ্য করা হচ্ছে না। ঘটনার আকস্মিকতায় যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কামাখ্যা মন্দিরে পুজো দিতে যাচ্ছিলেন বেঙ্গালুরুর এক বাসিন্দা। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রেনটির পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলছিলেন, ট্রেনটি ভাগ্যিস ধীর গতিতে চলছিল। তাই বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। নইলে আবার বালেশ্বরের মতো ঘটনা ঘটত। শয়ে শয়ে মানুষের প্রাণ যেত। রেল মন্ত্রকের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন যাত্রীদের একাংশ। তাদের অভিযোগ, নতুন নতুন ট্রেন চালু না করে পরিকাঠামোতে আরও মনোযোগ দেওয়া দরকার। কিন্তু, মোদি সরকারের তাতে নজর নেই। তাই একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। জগন্নাথের কৃপায় এবার বেঁচে গেলাম।
রেলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেনটিকে ট্র্যাকে তুলে সংশ্লিষ্ট লাইন দিয়ে রেল পরিষেবা স্বাভাবিক করতে তৎপর কর্তৃপক্ষ। এদিনের দুর্ঘটনার জেরে ধৌলি এক্সপ্রেস, নীলাচল এক্সপ্রেস ও পুরুলিয়া এক্সপ্রেস ঘুর পথে চালানো হয়েছে। এছাড়া, দু’টি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করেছে রেল।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ওড়িশার বালেশ্বরে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল করমণ্ডল এক্সপ্রেস। প্রথমে মালগাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ হয় ট্রেনটি। বেলাইন
হয়ে যায় ২১টি বগি। এর মধ্যে তিনটি কামরা বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসের সঙ্গে ধাক্কা খায়। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ২৯৬ জন প্রাণ হারান। আহত হয়েছিলেন হাজারেরও বেশি মানুষ। এদিন কটকের দুর্ঘটনা প্রায় দু’বছর আগের সেই স্মৃতিকে ফের উস্কে দিয়েছে।