


প্রীতেশ বসু,কলকাতা: শুক্রবার রাতে রাজ্যসভার চার আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে অন্যতম চমক সদ্য প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমারের নাম। সংসদীয় কর্মসূচিতে তাঁর পা রাখা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। তবে রাজীব কুমারই প্রথম নন। তাঁর আগে একাধিক আইএএস এবং আইপিএস অফিসার তাঁদের কর্মজীবনে নানা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পর যোগ দিয়েছেন রাজনীতিতে। রাজীব কুমারকে ধরলে শুধু তৃণমূল জমানাতেই এমন আইএএস-আইপিএসের সংখ্যা ১০।
২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের টিকিটে প্রাক্তন আমলাদের মধ্যে প্রথম রাজ্যসভার সদস্য হন ১৯৫৫ ব্যাচের আইএএস অফিসার দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একইভাবে বিগত সাড়ে ১৪ বছরে কেউ অবসরের পর, কেউ আবার চাকরি ছেড়ে নেমেছেন নির্বাচনের ময়দানে। হয়েছেন মন্ত্রীও। পালাবদলের পর সিভিল সার্ভিস থেকে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পেলেও বাম আমলেই রয়েছে এমন একাধিক উদাহরণ। ঘাসফুল প্রতীকে লড়াই করে হাওড়া এবং পাঁশকুড়া থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হিসেবে অবসর নেওয়া আইএএস বিক্রম সরকার। তিনি সাংসদ হয়েছিলেন ১৯৯৮ এবং ২০০০ (উপ-নির্বাচন) সালে। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার ১০ বছর আগে পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন ১৯৯৫ সালে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস দীপক ঘোষ। বাম আমলে ‘অপারেশন বর্গা’ চলাকালীন ভূমিসংস্কার কমিশনারের (এলআরসি) দায়িত্ব এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের এগজিকিউটিভ পদে থাকা দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই তৃণমূল জমানায় প্রশাসন থেকে রাজনীতিতে আসার পথপ্রদর্শক বলা যায়। প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের পর তৃণমূল আমলে মন্ত্রী হয়েছেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যে অন্যতম সিবিআই অফিসার তথা বাঙালি আইপিএস উপেন বিশ্বাস। ২০১১ সালে বাগদা বিধানসভা থেকে জয়ী হয়ে তিনি মমতার প্রথম মন্ত্রিসভায় অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী হয়েছিলেন। মমতার সরকারের প্রথম পাঁচ বছরে বিদ্যুৎমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব মনীশ গুপ্তের অবদান এখনো নবান্নের পাওয়ার করিডরে আলোচিত হয়। পরবর্তীকালে তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদও করেন মমতা। ডিআইজি পদে থাকাকালীন অবসর নিয়ে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা থেকে তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত হয়ে কারামন্ত্রী হন অবনী মোহন জোয়ারদার। রাজ্যের প্রাক্তন ডিজি হায়দার আজিজ সফি একাধিক দপ্তরের মন্ত্রী এবং পরবর্তীতে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব সামলেছেন। প্রাক্তন আইপিএস চৌধুরী মোহন জাটুয়া হয়েছিলেন মথুরাপুরের সাংসদ। তৃণমূলের টিকিটে উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হন প্রাক্তন আইপিএস রচপাল সিং। তাঁকে ২০১৬ সালে পরিসংখ্যান দপ্তরের মন্ত্রী করেছিলেন মমতা। জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থাকাকালীন স্বেচ্ছাবসর নিয়ে তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন জেমস কুজুর। ২০১১ সালে বাম দুর্গ হিসেবে পরিচিত হাওড়ার বালি বিধানসভা কেন্দ্রে ঘাসফুল ফোটাতে মমতার প্রার্থী হিসেবে জিতে আসেন ওই জেলারই এক সময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ পুলিশ সুপার সুলতান সিং। চন্দনগরের পুলিশ কমিশনার থাকাকালীন আইপিএসের চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে জিতে কারিগরি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন ২০০৩ ব্যাচের আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবীর। যদিও এঁদের মধ্যে কেউ কেউ পরবর্তী সময়ে দল পরিবর্তন বা বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেও অধিকাংশই তাঁদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সফল। এছাড়া আরও কিছু প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তি যোগ দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই নির্বাচনে সাফল্যের মুখ দেখেননি।