


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অগ্নিগর্ভ নেপালে গিয়ে আটকে পড়েছেন এ রাজ্যর পর্যটকরা। এঁদের কেউ আটকে আছেন কাঠমাণ্ডুতে, কেউ পোখরা আবার কেউ চিতওয়ানে। মঙ্গলবারের দিনভর অশান্তি এবং সে দেশের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি সহ গোটা মন্ত্রিসভার পদত্যাগের পর নেপাল ছাড়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন ভারতীয় পর্যটকরা। ইতিমধ্যেই দিল্লির তরফে সে দেশে থাকা ভারতীয় পর্যটকদের যে কোনও সাহায্যের জন্য কাঠমাণ্ডুর ভারতীয় দূতাবাসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধু পর্যটকই নয়, তিব্বতের শৈবনিবাস কৈলাস দর্শন-মানস সরোবরে পুণ্যার্জনের জন্য যাওয়া পুণ্যার্থীরাও আটকে রয়েছে নেপালের সিমিকোট, নেপালগঞ্জ, ইলশার মতো প্রত্যন্ত শহরগুলিতে। বিমান ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় দেশে ফিরতে পারছেন না তাঁরা। বিভিন্ন ট্যুর অপারেট সূত্রের খবর, পর্যটক ও পুণ্যার্থী মিলিয়ে কমপক্ষে ১০ হাজার ভারতীয় আটকে রয়েছেন নেপালে। এর মধ্যে বাংলার ঠিক কতজন নেপালে আটকে রয়েছেন, তা নিয়ে প্রশাসনিক ভাবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি।
৫ সেপ্টেম্বর পূর্ব বর্ধমানের মশাগ্রাম থেকে ৩০ জনের পর্যটক দল নিয়ে নেপাল ভ্রমণে গিয়েছেন ট্যুর অপারেটর সাগর মুখোপাধ্যায়। জেন-জি’র আন্দোলনে সোমবার যখন উত্তাল হয়ে উঠেছিল কাঠমাণ্ডু, তখন পর্যটকদের নিয়ে ভক্তপুরে ছিলেন সাগরবাবু। রাতে ফেরার পথে বুঝতে পারেন, বড়সড় কিছু ঘটেছে সেখানে। রাত পোহাতেই পর্যটকদের নিয়ে পোখরা রওনা হয়ে যান। সকাল সাতটায় কাঠমাণ্ডু ছাড়ার এক ঘণ্টা পরেই শুরু হয়ে যায় ‘কার্ফু’। সন্ধ্যায় মোবাইলে সাগরবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, পৃথ্বী হাইওয়ে ধরে পোখরা আসার পথে নওবিশে এবং কলচি, দু’জায়গায় আড়াই তিন ঘণ্টা ধরে অবরোধের পড়তে হয়েছিল। পোখরা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে রয়েছি। তামোলি বলে একটা জায়গা পার হলাম। রাস্তার ধারে উল্টে রয়েছে একটি অ্যাম্বুলেন্স, আগুন ধরানো হয়েছিল। কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। দোকানপাট সব বন্ধ, থমথমে পরিবেশ। সাগরবাবুর কথায়, সবাই খুব আতঙ্কে রয়েছি। কাল, বুধবার সকালে পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেব। সঙ্গে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা রক্ষাই এখন প্রধান কাজ। বেশ কয়েকটি ট্যুর অপারেটর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই পোখরা থেকে সিদ্ধার্থ হাইওয়ে ধরে বিহারের সীমান্ত শহর বাহাদুরগঞ্জ এবং চিতওয়ান থেকে মহেন্দ্র হাইওয়ে ধরে উত্তরপ্রদেশের সীমান্ত শহর সুনাউলির দিকে আসার চেষ্টা চালাচ্ছেন ভারতীয় পর্যটকরা। তবে মওকা বুঝে দেদার দর হাঁকছে গাড়িওয়ালারা। পুজোর ভ্রমণপর্বে এবার নেপালের বিভিন্ন পর্যটনস্থলে এ রাজ্যের কয়েক হাজার পযটক বুকিং করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে নেপালের বদলে অন্য কোথাও ঘুরতে যাওয়া যায় কি না, তা নিয়ে ট্যুর অপারেটরদের কাছে ইতিমধ্যেই খোঁজখবর নিচ্ছেন অনেকেই।
এদিকে, মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে কন্যাশ্রীতে উঠেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু আচমকাই মধ্যরাতে তিনি সেখান থেকে সোজা উত্তরকন্যায় সচিবালয়ে চলে আসেন। জানা গিয়েছে, কন্যাশ্রীতে ফোন বা ইন্টারনেট কাজ করছিল না। ফলে, যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছিল। নেপালের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠায়, সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী। তাই তিনি উত্তরকন্যায় চলে আসেন। তাঁর সঙ্গে মুখ্যসচিব সহ অন্য আধিকারিকরাও সেখানে আসেন।