


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নিছক কলা, বিজ্ঞান ও কমার্স স্নাতক হয়ে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই কমছে। ঝুলিতে শুধুই স্নাতক ডিগ্রি থাকলে কর্মপ্রার্থীদের সবেধন নীলমণি কর্মজগত সরকারি চাকরি। সেই কারণে কেন্দ্র অথবা রাজ্য সরকারি চাকরিতে যত সংখ্যক পদে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা নেওয়া নেয়, তার তুলনায় বহুগুণ বেশি আবেদনপত্র জমা পড়ছে। এই প্রবণতা চিরকালই ছিল। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে শূন্য পদ এবং চাকরিপ্রার্থীদের অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা আকাশ ছুঁয়েছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত ‘রিইমাজিনিং স্কিলিং ফর বিকশিত ভারত’ রিপোর্টে খোদ নীতি আয়োগ উদাহরণ দিয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই মাসের মধ্যে অর্থাৎ মাত্র ৮ মাসে সরকারি চাকরিতে ৫৫ হাজার পদের নিয়োগের বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ৫৫ হাজার পদের জন্য আবেদন করেছিল প্রায় ২ কোটি কর্মপ্রার্থী। আর এদের সিংহভাগ শুধু সাধারণ কলা, বিজ্ঞান, কমার্স স্নাতকরা নয়, রয়েছে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরাও। অর্থাৎ প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ নিয়েও যেখানে সাধারণ ক্লারিকাল কাজের জন্য আবেদন করা হচ্ছে, তখন চাকরির বাজার সহজেই অনুমেয়। কিন্তু এমনটা হওয়ার কারণ কী? নীতি আয়োগের রিপোর্ট বলছে, মূল গলদ শিক্ষার সিস্টেমেই। সরাসরি দেশের উচ্চশিক্ষা ও টেকনিক্যাল শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত আখ্যা দিয়ে ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, কাজের মার্কেট কী চায় আর শিক্ষা ব্যবস্থায় কী পড়ানো চলছে, এই দুইয়ের মধ্যে বিন্দুমাত্র সমন্বয় নেই।
ভারতে শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের মধ্যে আকাশ পাতাল ফারাক নিয়ে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করেই থামেনি নীতি আয়োগ। তারা মনে করছে, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন দরকার। শিক্ষাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে কর্মমুখী করতে হবে। অর্থাৎ যে বিএ, বিএসসি, বিকম যে-কোনো স্নাতক কোর্সকে নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে হবে। মূল মন্ত্র হওয়া উচিত শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ। শুধুই শিক্ষাগত ডিগ্রি থাকলে হবে না। সরকারি চাকরির সুযোগ ক্রমহ্রাসমান। অন্যদিকে স্নাতক কর্মহীনের সংখ্যা ভারতে উদ্বেগজনকভাবে বেশি। একইসঙ্গে চাকরিরতদের ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি হারে যা দেখা যাচ্ছে, সেটা হল কাজের সঙ্গে ডিগ্রির সম্পর্কই নেই। যে বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছে এবং যে চাকরিটা করছে, দুয়ের সঙ্গে সামান্যতম সংগতি নেই। নীতি আয়োগ মনে করছে, এর ফলে ওই অতীত শিক্ষাও মূল্যহীন হয়ে গেল, আবার যে কর্মদাতা সংস্থা যে রকম প্রশিক্ষিত কর্মী চায়, তা পাচ্ছেও না। ফলে ক্ষতি সুদূরপ্রসারী। কারণ, এর প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্কৃতিতে, উৎপাদনে, অর্থনীতিতে। তাই নীতি আয়োগের পরামর্শ হল, শিক্ষা প্রক্রিয়ায় সরাসরি শিল্পমহল প্রবেশ করুক। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ গড়ে তোলা হোক। তাদের প্রস্তাব, বিএ (হসপিটালিটি), বিএসসি (অ্যাপ্লায়েড টেকনোলজি), বিকম (অ্যানালিটিকস) এই ধাঁচের নতুন ডিগ্রি কোর্স চালু করতে হবে। ‘আর্ন হোয়াইল লার্ন’ মডেলের পক্ষেও মতপ্রকাশ করেছে নীতি আয়োগ। অর্থাৎ এই জাতীয় কোর্স করতে করতেই অ্যাপ্রেন্টিসশিপে প্রবেশ করুক ছাত্রছাত্রী। পড়া এবং কাজ একসঙ্গে চলুক। তাতে হাতেকলমে অভিজ্ঞতা এরং তত্ত্বজ্ঞান দুই-ই হবে। যোগ্য, স্কিলড এবং সমকালীন শিল্পক্ষেত্রে মানানসই ছাড়া শুধু সাধারণ স্নাতক হয়ে আর কোনো লাভ হবে না।