


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ট্রেনের টিকিট বুকিংয়ের সময় আচমকাই ‘লগ আউট’ হয়ে যাচ্ছে আইআরসিটিসির অ্যাকাউন্ট। ফলে মুহূর্তেই হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে দূরপাল্লার ট্রেনের কনফার্মড টিকিট। কারণ ফের ‘লগ ইন’ করে আবার বুকিংয়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে যাবতীয় কনফার্মড টিকিট। আবার কখনো অনলাইনে টিকিট বুকিং করার সময় রেল যাত্রীদের বড়ো অংশের কাছে আসছে কিস্তিতে পেমেন্ট করার বিকল্প। তা বাছতে গিয়ে বা এড়াতে গিয়েও নষ্ট হচ্ছে কিছু সময়। তারই মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে মেল, এক্সপ্রেসের সমস্ত টিকিট। সব মিলিয়ে রীতিমতো নাজেহাল দশা রেল যাত্রীদের। আর মাসদু’য়েক পরেই দুর্গাপুজো। তখন থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে উৎসবের মরশুম। এই সময়ে প্রতিবারই দূরপাল্লার ট্রেনে টিকিটের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। উৎসবের মরশুম শুরুর প্রাক্কালেই ডিজিটাল দালালরাজের এহেন একের পর এক নয়া কায়দায় রীতিমতো চিন্তায় রেল বোর্ড। অবিলম্বে এই সমস্যার সুরাহার জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা ‘ক্রিস’কে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রক।
শারদোৎসবের সময় ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়ে হয়রান হতে হচ্ছে আম বাঙালিকে। কারণ দূরপাল্লার প্রায় কোনো ট্রেনেই কনফার্মড টিকিট নেই। এমনকি আরএসি বা ওয়েটিং লিস্ট টিকিটও বুকিং হচ্ছে না। ‘রিগ্রেট’ বা ‘নো রুম’ বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ডিজিটাল দালালরাজের নিত্যনতুন কায়দায় কার্যত সিঁদুরে মেঘ দেখছেন রেলের শীর্ষ আধিকারিকরা। ভুক্তভোগী রেল যাত্রীদের বড়ো অংশের অভিযোগ, ইন্টারনেট পরিষেবা ঠিক থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় কাজ করছে না অনলাইন টিকিট বুকিং পরিষেবা। বুকিং প্রক্রিয়া চলার সময় আচমকাই ‘লগ আউট’ হয়ে যাচ্ছে ওয়েবসাইট বা অ্যাপ।
সম্প্রতি দেশের ৩২৪টি জেলায় প্রায় ৯০ হাজার অনলাইন ট্রেন টিকিট বুকিং পরিষেবা ব্যবহারকারীর উপর সমীক্ষা চালিয়েছিল একটি বেসরকারি সংস্থা। সেখানে অর্ধেকেরও বেশি ব্যবহারকারীর অভিযোগ, তাঁদের আইআরসিটিসির অ্যাকাউন্টে আচমকা ‘লগ আউট’জনিত সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে, কিস্তিতে পেমেন্ট করার বিষয় নিয়েও বৃদ্ধি পাচ্ছে উদ্বেগ। মন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রে খবর, রেলের পক্ষ থেকে এমন কোনো ব্যবস্থা চালু করা হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে কয়েকটি ব্যাংক এমন পরিষেবা দিচ্ছে। তার দায় রেলের নয়!