


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ধান কেনায় অনিয়ম বন্ধ করতে জেলার ক্রয়কেন্দ্রগুলিতে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা নিয়মিত পরিদর্শন করবেন। বৃহস্পতিবার জেলাশাসক আয়েশা রানি এ এমনই নির্দেশ দিয়েছেন। কোন অফিসার কোথায় যাবেন, সেই তালিকাও তৈরি করা হয়েছে। তাঁরা এলাকায় গিয়ে চাষিদের সঙ্গে কথা বলবেন। ধান বিক্রি করতে কী অসুবিধা হচ্ছে, তা তাঁরা জানতে চাইবেন। ক্রয়কেন্দ্রের কর্মীরা চাষিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ঢলতা নিলে তাঁদের শোকজ করা হবে। কোনও ফড়েকে ক্রয়কেন্দ্রে দেখা গেলে তাঁর নামে এফআইআর করা হবে। জেলাশাসক বলেন, চাষিরা যাতে সুষ্ঠুভাবে ধান বিক্রি করতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অযথা চাষিদের হয়রান করা যাবে না। নিয়ম অনুযায়ী আর্দ্রতা মেপে ধান নিতে হবে।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ২৩ জন আধিকারিককে নিয়মিত পরিদর্শনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মহকুমা শাসক এবং বিডিওরাও ক্রয়কেন্দ্রগুলিতে যাবেন। আচমকা পরিদর্শনে যাবেন জেলাশাসকও। গ্রামে গিয়ে তিনি চাষিদের সঙ্গে কথা বলবেন। কয়েকদিন আগে মেমারি-২ ব্লকের ক্রয়কেন্দ্র নিয়ে চাষিরা অভিযোগ করেছেন। তাঁদের থেকে অতিরিক্ত ঢলতা নেওয়া হচ্ছে বলে চাষিরা দাবি করেন। সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়। আগামী দিনেও এধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করা হবে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
মঙ্গলকোট, গলসি, কাটোয়া, খণ্ডঘোষ, ভাতার এবং আউশগ্রাম ব্লকের দিকে আধিকারিকদের বিশেষ নজর রয়েছে। গত বছর এই ব্লকগুলি থেকে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ এসেছিল। কোথাও কোথাও ধানের দাম কম দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ আসে। এবার প্রথম থেকেই আধিকারিকরা সতর্ক রয়েছেন। এছাড়া, ফড়েরা যাতে ফায়দা তুলতে না পারে, সেদিকেও আধিকারিকরা নজর দিয়েছেন। ফড়েরা চাষিদের থেকে কম দামে ধান কিনে ক্রয়কেন্দ্রগুলিতে বেশি দরে বিক্রি করে। চাষিরা বলেন, ক্রয়কেন্দ্রগুলি গ্রাম থেকে দূরে রয়েছে। সেই সুযোগের ফায়দা তোলে ফড়েরা। তারা চাষিদের বাড়িতে গিয়ে ধান কেনে। ঝক্কি এড়াতে অনেক চাষি তাদের কাছে ধান বিক্রি করে দেন।
চাষি অনুপ পাত্র বলেন, ঢলতা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। ক্রয়কেন্দ্রের কর্মীরা নিজেদের খুশিমতো ধান নিচ্ছেন। সেটা বন্ধ করা দরকার। তাছাড়া, মোবাইল ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ান দরকার। গ্রামের কাছাকাছি ক্যাম্প থাকলে ধান বিক্রি করতে চাষিদের সুবিধা হয়। ক্রয়কেন্দ্রে ধান নিয়ে গিয়ে চাষিদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। এখন রবি চাষের মরশুম। এই সময় ক্রয়কেন্দ্রে ধান নিয়ে গিয়ে চাষিদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার সময় নেই।
খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর জানিয়েছে, এবছর মোবাইল ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। চাষিদের সুবিধার জন্য ধান কেনার টার্গেটও বাড়ান হয়েছে। তারপরও ধান বিক্রি করতে গিয়ে চাষিরা কোথাও সমস্যায় পড়লে খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করা হবে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।