


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেহালায় জয় ছাড়া আর কিছুই দেখছে না তৃণমূল কংগ্রেস। তবে শুধু জয় নয়, বরং একুশের জয়ের ব্যবধানকে ছাপিয়ে যেতে চান বেহালা-পূর্ব ও বেহালা-পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী যথাক্রমে শুভাশিস চক্রবর্তী ও রত্না চট্টোপাধ্যায়। এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সবকটি ওয়ার্ডই এখন ঘাসফুলের দখলে। তাই প্রার্থীরা প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলারকে জয়ের টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন। বলেছেন, ন্যূনতম তিন হাজারের ‘ব্যবধান’ চাই। ভোটের সপ্তাহ দুয়েক আগে পুর প্রতিনিধিরা এই ‘টাস্ক’ শেষ করতে উঠেপড়ে লেগেছেন।
বেহালা-পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে ১১টি ওয়ার্ড রয়েছে। সবকটি ওয়ার্ডেই শাসকদলের কাউন্সিলার। এর মধ্যে আয়তন ও লোকসংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বড়ো ওয়ার্ড হল ১২৩ ও ১২৪ নম্বর। এই দু’টি ওয়ার্ডে গত লোকসভা নির্বাচনে আড়াই হাজারের কিছু বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজেপিকে পিছনে ফেলেছিল তৃণমূল। তাহলে উপায়? সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দুই কাউন্সিলার সুদীপ পোল্লে ও রাজীব দাসকে প্রার্থী শুভাশিস বলেছেন, ‘কোন কোন পার্টে লিড বাড়ানো সম্ভব, তা খতিয়ে দেখে এখনই ঝাঁপাতে হবে। জোর দিতে হবে প্রচারে। ভোটারদের কাছে প্রার্থীর ছবি সহ কার্ড পৌঁছে দিতে হবে।’ সেইমতো ১২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ইতিমধ্যেই জোরদার প্রচারে নেমেছেন কাউন্সিলার রাজীব দাস। ঠাকুরপুকুরের সিস্টার নিবেদিতা রোড, মাঝিপাড়া সংলগ্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ করছেন তিনি। কাউন্সিলার বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের খতিয়ান এলাকার সবক’টি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য। প্রার্থীর এই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হচ্ছে। বেহালা-পূর্বে আমরা ভালো ব্যবধানে জিতব। শুভাশিস চক্রবর্তীকে ভালো মার্জিন দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’ একইভাবে প্রচারে নেমেছেন ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলারও। সখেরবাজার, শীলপাড়া, মুচিপাড়া এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উন্নয়নের কথা বলছেন স্থানীয় কাউন্সিলার সুদীপ পোল্লে।
বেহালা-পূর্বের কাউন্সিলাররা যখন রেকর্ড ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্যে পথে নেমেছেন, তখন বেহালা-পশ্চিমেও ওয়ার্ড ভিত্তিক রোড শো’য়ে জোর দিয়েছেন ঘাসফুলের প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়। তিনি নিজেও ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। এই কেন্দ্রে গত লোকসভা ভোটে ওয়ার্ডভিত্তিক ফলাফলের ‘ময়নাতদন্ত’ করেছেন তিনি। বেহালা-পশ্চিম আসনের অন্তর্গত ১০টি ওয়ার্ডই তৃণমূলের পকেটে। ১২৫ নম্বর ওয়ার্ডে লোকসভা ভোটে ১ হাজার ৮৬৫ ভোটে এগিয়েছিল তৃণমূল। বিজেপি ছিল দ্বিতীয় স্থানে। ১১৮ নম্বর ওয়ার্ডেও তৃণমূল ২ হাজার ৪৩৫ ভোটে এগিয়েছিল। বাকি ওয়ার্ডগুলিতে জয়ের ব্যবধান ছিল দু’ হাজারের কম। তাই সব মিলিয়ে ১০টি ওয়ার্ডেই কাউন্সিলারদের বাড়তি উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন রত্না। নিজের ওয়ার্ডে সাড়ে তিন হাজারের বেশি লিড পাবেন বলে আত্মবিশ্বাসী জোড়াফুলের প্রার্থী।
বেহালা-পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শুভাশিস চক্রবর্তীর সমর্থনে প্রচার ১২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রাজীব দাসের।