


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আন্তঃরাজ্য জাল লটারি টিকিট বিক্রি চক্রের চার সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করলেন লালবাজারের গুন্ডাদমন শাখার গোয়েন্দারা। রবিবার রাতে ট্যাংরায় অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেপ্তার করেছে লালবাজার। ধৃতরা হল, শাহনওয়াজ আহমেদ ওরফে শাহিদ (৩৬), মহম্মদ কায়ুম (৫৬), রুস্তুম হোসেন (২২) এবং মহম্মদ তনবীর (২৭)। ধৃতরা নারকেলডাঙা, মধ্যমগ্রাম, টিটাগড় এবং আমহার্স্ট স্ট্রিটের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল এই খবর জানিয়েছেন।
সোর্স মারফত খবর পেয়ে, লালবাজারের গুন্ডাদমন শাখার গোয়েন্দাদের একটি টিম রবিবার রাতে ট্যাংরা থানার ৩/১ মঠেশ্বরতলা লেনে হানা দিয়ে এঁদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেন। ধৃতদের কাছ থেকে ভুটান স্টেট লটারি, চেরাপুঞ্জি ধনলক্ষ্মী, নাগাল্যান্ড লটারির বস্তা বস্তা জাল টিকিট বাজেয়াপ্ত হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দারা ঘটনাস্থল থেকে কম্পিউটার, প্রিন্টার, পেপার কাটিং মেশিন, সিপিইউ সহ একাধিক মেশিন বাজেয়াপ্ত করেছেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই চক্রের সদস্যরা ভুটান স্টেট লটারি, চেরাপুঞ্জি ধনলক্ষ্মী, নাগাল্যান্ড লটারির মতো একাধিক জনপ্রিয় লটারির জাল টিকিট ছাপানোর পাশাপাশি কাটিং ও স্টেপল করে খোলা বাজারে ছড়িয়ে দিতেন। এর ফলে সাধারণ ক্রেতারা জাল টিকিটকে আসল লটারির টিকিট ভেবে কিনে প্রতারিত হতেন।
ধৃতদের বিরুদ্ধে লালবাজার প্রতারণা, ভুয়ো পরিচয়ে প্রতারণা, জালিয়াতি, জাল নথিকে আসল বলে চালানো এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্তে নেমেছে। কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছেন, প্রাথমিক তদন্তে এই চক্রের সদস্যদের গতিবিধি ভুটানে মিলেছে। গোয়েন্দারা ধৃতদের জিজ্ঞাসা করে জানার চেষ্টা করছেন, এই চক্রের সদস্যদের সঙ্গে আর কারা কারা যুক্ত? দ্বিতীয়ত, কলকাতা ছাড়া রাজ্যের কোন কোন জেলায় এই জাল লটারির টিকিট বিক্রি করা হত? তৃতীয়ত, এই চক্রের খপ্পরে পড়ে এখন পর্যন্ত কতজন প্রতারিত হয়েছেন।