


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংবিধানের প্রকৃত রক্ষাকর্তা কারা, তা নিয়ে সরকার আর কংগ্রেসের মধ্যে শুরু হয়েছে বিতণ্ডা। ২৫ জুন ছিল ইন্দিরা গান্ধীর জারি করা ইমার্জেন্সি বা জরুরি অবস্থার ৫০ বছর পূর্তি। দিনটি ভুলতে চায় কংগ্রেস। কিন্তু পাল্টা সেটিই জনমানসে মনে করিয়ে সময়ের স্মৃতি উস্কে মোদি সরকার চায় কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে। তাই এদিন নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাশ হল প্রস্তাব। পালন হল দু মিনিটের নীরবতা। পাশাপাশি দেশজুড়ে আগামী এক বছর ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ পালনেরও কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। যদিও তৃণমূল শাসিত পশ্চিমবঙ্গ বা কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলি তা পালন করবে না বলেই ঠিক করেছে। উল্টে, কংগ্রেস এবং তৃণমূল, উভয়েই আলাদা করে মোদির শাসনকালকেই অঘোষিত জরুরি অবস্থা বলেই তোপ দেগেছে।
সরকারি অর্থ ব্যয়ে এদিন থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রক শুরু করেছে সংবিধান হত্যা দিবসের অনুষ্ঠান। অন্যদিকে, সোনিয়া-রাহুল গান্ধীর পরামর্শ মেনে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে করলেন বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলন। গত ৫০ বছরে এই প্রথমবার কোনও কংগ্রেস সভাপতি জরুরি অবস্থা নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন। যদিও সেখানে তিনি স্পষ্ট করলেন না, জরুরি অবস্থা জারি করা ভুল হয়েছিল নাকি ঠিক? মল্লিকার্জুন খাড়্গে বললেন, অহেতুক এক ভুলে যাওয়া বিষয় নিয়ে আজ বিজেপি-আরএসএস রাজনীতি করছে। আসলে নিজের ব্যর্থতা ঢাকতেই মোদির এই নাটক। মোদিকে ভাষণকার, কীর্তনকার বলেও কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস।
খাড়্গে বললেন, সংবিধানকে খতম করার লক্ষ্যেই মোদি এবার ৪০০ আসনের আওয়াজ তুলেছিলেন। কিন্তু জনতা সবক শিখিয়েছে। আমরা ইন্ডিয়া জোট আর ২৫ আসন বেশি পেলেই মোদিকে ক্ষমতায় ফিরতে হতো না। নির্বাচন কমিশনকে কাঠপুতলি বানিয়ে ম্যাচ ফিক্সিং করে ভোট জিতছেন মোদি। আমরা বারবার পেপার ব্যালটে ভোটের দাবি করলেও কমিশন তা কানে তুলছে না। তবে আমরা স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবি করেই যাব। একইসঙ্গে খাড়্গের দাবি, কংগ্রেস গত কয়েক মাস সংবিধান বাঁচাও র্যালি করছে বলেই ভয় পেয়েছেন মোদি। তাই অহেতুক জরুরি অবস্থার কথা মনে করিয়ে নিজের ব্যর্থতা থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে চাইছেন। ইন্দিরা গান্ধী যে মোরারজি দেশাইয়ের সরকারকে সংবিধানের ৩৫২ (১) অনুচ্ছেদ সংশোধনে সাহায্য করেছিলেন, সেটি কেন বলছে না বিজেপি? আরএসএস যে পরোক্ষে জরুরি অবস্থা সমর্থন করেছিল, সে নিয়ে চিঠি প্রকাশ্যে আনব কি? হুমকি দেন খাড়্গে।