


নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: বাড়ছে হাতির উপদ্রব। খাবারের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডবও চালাচ্ছে হাতির দল। ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে। কপালে চিন্তার ভাঁজ চাষিদের। সেই সমস্যার সমাধান করতে অবশেষে ‘বাঁশবন’ তৈরির সিদ্ধান্ত নিল বনদপ্তর।
জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর ডিভিশনের তিনটি রেঞ্জ এলাকার প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে বাঁশগাছ লাগানো হবে। এরফলে একদিকে জঙ্গলের ভিতরে হাতির খাবারের সমস্যা আর থাকবে না। অপরদিকে, চাষের জমিতে হাতির আক্রমণের পরিমাণও কমবে। বনদপ্তরের আধিকারিকরা জানান, গত বছর ২০ হেক্টর জমিতে প্রায় আট হাজার বাঁশগাছ লাগানো হয়েছে। এবছর জুলাই মাস থেকেই বাঁশগাছ লাগানো শুরু হবে। বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ছোট পুকুর কাটার মাধ্যমে হাতিদের জলের সমস্যাও দূর হয়েছে। বাঁশগাছ লাগালে এবার হাতিদের খাবারের সমস্যাও দূর হবে। বাঁশগাছের বনেই বেশি সময় ধরে হাতিদের রাখার চেষ্টা করা হবে। চাঁদড়া, পিরাকাটা ও লালগড় রেঞ্জ এলাকায় বাঁশ বাগান তৈরির কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরফলে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা ছাড়াও ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়া জেলার মানুষও উপকৃত হবেন। মেদিনীপুর ডিভিশনের ডিএফও দীপক এম বলেন, হাতির জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করতেই বাঁশগাছ লাগানো হবে। এছাড়াও, বিশেষ ধরনের ঘাস লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাতিকে নিয়ে কেউ আতঙ্কিত হবেন না। বনদপ্তর সর্বদা পাশে আছে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে জঙ্গলমহলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হাতি। দিন দিন হাতির সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে। শুধু বাড়িঘর বা ফসলের ক্ষতিই নয়, হাতির তাণ্ডবে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটছে। জেলার বিপুল হাতির দলকে নিয়ন্ত্রণ করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে বনদপ্তরের আধিকারিকদের। জানা গিয়েছে, গত অর্থবর্ষে মেদিনীপুর ডিভিশন এলাকায় হাতির হানায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও, কয়েকশো হেক্টর জমিতে চাষের ক্ষতি হয়। বিপুল পরিমাণে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় মাথায় হাত উঠেছে চাষিদের। মেদিনীপুর ছাড়াও ঝাড়গ্রাম বনবিভাগ এলাকার চিত্রটা প্রায় একই। গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, প্রায় সারা বছর ধরেই জঙ্গলে হাতি থাকছে। জঙ্গলমহলের বহু মানুষের রোজগারের ক্ষেত্রে জঙ্গলের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সেই জঙ্গলেই যেতে পারে না সাধারণ মানুষ। জঙ্গলে গিয়ে হাতির হানায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, জঙ্গলের ভিতরে খাবার না পেলেই চাষের জমি বা গ্রামের একাধিক বাড়িতে ভাঙচুর চালাচ্ছে হাতির দল। হাতি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেলেও ফের ফিরে আসছে। এই সময় বিভিন্ন বাগানে ঢুকে আম সাবাড় করছে হাতিরা।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর বনবিভাগ এলাকায় ৫০টির বেশি হাতি রয়েছে। মূলত চাঁদড়া, পিরাকাটা, আরাবাড়ি ও লালগড় রেঞ্জ এলাকায় হাতির দল অবস্থান করছে। এই এলাকায় প্রচুর পরিমাণে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। অনেক সময় খাবারের খোঁজে জমির ধান সাবাড় করছে হাতি। এদিকে, সময়মতো ক্ষতিপূরণ না মেলায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। চাঁদড়া এলাকার বাসিন্দা শ্যামল মণ্ডল বলেন, বনদপ্তরের বাঁশ বাগান তৈরির পরিকল্পনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। মূলত খাবারের খোঁজেই হাতির সমস্যা বাড়ছে। জঙ্গলে খাবারের পরিমাণ বেড়ে গেলে, হাতির দল কম তাণ্ডব চালাবে।